বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব শক্তি চট্টোপাধ্যায়। তাঁর লেখনি পাঠক মনকে চেতনার অন্যস্তরে পৌঁছে দেয়। তা নিয়ে আলোচনা সীমাহীন। তবে শুধু কাব্য চর্চাই নয়, ব্যক্তি শক্তিকে নিয়েও রয়েছে বহু কাহিনি। মিথ। তার ব্যাপ্তিও কবির সাহিত্যের পরিসরের মতোই অনন্ত। শোনা যায়, তিনি নাকি বোহেমিয়ান, চরম উচ্ছৃঙ্খল, উড়নচণ্ডী, বেহিসেবি। মদে ডুবে থাকতেন সারাক্ষণ। তবে এই জীবনযাপন কোনও ছাপই ফেলতে পারেনি তাঁর লেখনিতে। পদ্য, গদ্য, প্রবন্ধ হোক, কিংবা উইক-এন্ড ট্যুরিস্ট গাইডের মতো ভ্রমণের বই—সর্বত্রই দেখা গিয়েছে চিন্তার গভীরতা। মন ও মেধার দুর্লভ মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন লেখার মুন্সিয়ানায়। শব্দ প্রয়োগে ছিলেন নিখুঁত। কোথাও কোনও উচ্ছৃঙ্খলতা নেই। বেহিসেবি জীবনযাপনের কোনও আঁচ পড়েনি তাতে। তাই কোনও কোনও সাহিত্য অনুরাগী অস্ফুটে বলে ওঠেন, ‘আমরা জীবন ‘যাপন’ করি। আর শক্তির মতো মানুষ জীবন ‘রচনা’ করেন।’ তাই তাঁর সৃষ্টি জন্ম দেয় অবচেতনের আড়ালে থাকা বহু অদেখা-অচেনাকে। তাঁর স্ত্রী মীনাক্ষী চট্টোপাধ্যায়ও শক্তির মধ্যে খুঁজে পেয়েছিলেন, সংসারে থাকা এক সন্ন্যাসীকে।
Advertisement
গত সোমবার ছিল এই প্রথিতযশা কবি, ঔপন্যাসিক, লেখক, অনুবাদকের জন্মদিন। ১৯৩৩ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহড়ু গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়। মাত্র চার বছর বয়সে বাবাকে হারান। পিতৃহারা শিশুটির প্রাথমিক শিক্ষা চলে দাদামশাইয়ের বাড়িতেই। পরবর্তী সময়ে স্নাতকে ভর্তি হলেও তা শেষ করেননি। পেশার তাগিদে বহু কাজে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু কোথাও তেমনভাবে মন বসেনি। দোকানের সহকারী থেকে শিক্ষক, যোগ দিয়েছিলেন মোটর কোম্পানিতেও। শোনা যায়, পেশার তাগিদেই নাকি তিনি লেখালেখি শুরু করেছিলেন। সেটা আর ছাড়েননি। বাঙালি পাঠকরা পেলেন ‘হে প্রেম হে নৈঃশব্দ্য’-র মতো কাব্যগ্রন্থ, ‘কুয়োতলা’র মতো কালজয়ী উপন্যাস। রূপচাঁদ পক্ষী ছদ্মনামে লিখেছিলেন ‘রূপকথার কলকাতা’। এমন অসংখ্য বই রয়েছে পাঠক মননে। কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায় সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের কথা না বললে। শুধু খোশগল্প-আড্ডাই নয়, যৌথভাবে রচনা করেছিলেন ‘যুগলবন্দি, ‘সুন্দর রহস্যময়’।



