Bartaman Logo
১৭ জুন, ২০২৬

বারাণসী থেকে বাসে চেপেছিল সোনম, সঙ্গী অজ্ঞাতপরিচয় দুই, ‘হানিমুন মার্ডার’ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য গাজিপুরের ছাত্রীর

‘ওটা কী দেখছেন? দেখবেন না। খুলবেন না সোশ্যাল মিডিয়া।’ পাশে বসা যাত্রীর এমন নির্দেশ শুনে অবাক হয়েছিলেন উজালা যাদব। ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কে বসে রয়েছে তাঁর পাশে। বুঝতে পারেন পরেরদিন সকালে। টিভিতে খবর দেখে।

বারাণসী থেকে বাসে চেপেছিল সোনম, সঙ্গী অজ্ঞাতপরিচয় দুই, ‘হানিমুন মার্ডার’ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য গাজিপুরের ছাত্রীর
  • ১৬ জুন, ২০২৫ ০৯:০৬
Prefer us on Google

ইন্দোর: ‘ওটা কী দেখছেন? দেখবেন না। খুলবেন না সোশ্যাল মিডিয়া।’ পাশে বসা যাত্রীর এমন নির্দেশ শুনে অবাক হয়েছিলেন উজালা যাদব। ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কে বসে রয়েছে তাঁর পাশে। বুঝতে পারেন পরেরদিন সকালে। টিভিতে খবর দেখে। জানতে পারেন, আগেরদিন রাতে তিনি সফর করেছেন সোনম রঘুবংশীর সঙ্গে। হানিমুন মার্ডারের ‘মাস্টারমাইন্ড’। তড়িঘড়ি ইন্দোরে রাজা রঘুবংশীর দাদা শচীন রঘুবংশীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন উজালা। শচীন চার সন্দেহভাজনের ছবি উজালাকে পাঠান। কিন্তু উজালা জানিয়ে দেন, সোনমের সঙ্গে যে দু’জন ছিল, তাঁর সঙ্গে শচীনের পাঠানো চার সন্দেহভাজনের কোনও মিল নেই।

Advertisement

ঘটনাটি ৭ জুন রাতের। বারাণসী রেলস্টেশনের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন উজালা। গাজিপুরের সেদপুর এলাকার ছাত্রী। সেই সময় সোনমকে দেখেন তিনি। কালো পোশাক। মুখে স্কার্ফ। তার সঙ্গে আরও দু’জন ছিল। উজালা তখনও চিনতেন না এদের। বুঝতে পারেননি এরাই মেঘালয়ে হাড়হিম কাণ্ড ঘটিয়ে এসেছে। উজালার দাবি, রাত দশটা নাগাদ তাঁর কাছে সোনম জানতে চায়, ‘গোরক্ষপুর যাওয়ার ট্রেন কখন?’ জবাবে উজালা জানান, ‘রাত তিনটের সময়। ট্রেনের বদলে বাসেও গোরক্ষপুর যেতে পারেন।’  বারাণসী স্টেশনের কাছেই বাস টার্মিনাস। রাত হয়ে যাওয়ায় বাসে উঠে পড়েন উজালা। তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের একজন মারা গিয়েছিলেন। সে জন্য লখনউ যেতে হয়েছিল। বারাণসী হয়ে গাজিপুর ফিরছিলাম।’ ওই ছাত্রীর দাবি, বাসে তাঁর পাশেই বসেছিল সোনম। একসময় অন্যদিকে বসা এক পুরুষ যাত্রীর থেকে ফোন চায় সে। তবে ফোন দিতে চাননি ওই যাত্রী। তারপর যাত্রীটি নেমে যান। তারপর উজালার দিকে ঝুঁকে বসে সোনম। উজালা বলেন, ‘এরপর আমার থেকে ফোন চায়। আমি দিয়েছিলাম। কার সঙ্গে যেন একটা কথা বলল। ফোন ফেরত দেওয়ার আগে নম্বরটি কললিস্ট থেকে ডিলিট করে দেওয়ার কথা বলে।’ ততদিনে মেঘালয়ে উদ্ধার হয়েছে রাজা রঘুবংশীর দেহ। খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না তাঁর স্ত্রীর। সেই খবর তখন সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে ঝড়ের গতিতে ছড়াচ্ছে। উজালাও ফোনে খবরটি দেখছিলেন। তবে সেই প্রতিবেদন দেখতে নিষেধ করে সোনম। ‘দেড় ঘণ্টার জার্নি। বারবার আমাকে জিজ্ঞাসা করছিল, কখন আসবে গোরক্ষপুর। একসময় আমার থেকে জল চায়। তখন মুখটা খেয়াল করেছিলাম।’ সকালে টিভিতে খবর দেখে উজালা উপলব্ধি করেন সোনমের সঙ্গেই গতরাতে সফর করেছেন তিনি। তারপরই শচীনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন উজালা। তার কয়েকদিন পরেই স্বামীকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয় সোনম। ১৭ দিন লুকিয়ে থাকার পর। উজালা বলেন, ‘মেঘালয় পুলিস আমার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তদন্তে সবরকম সাহায্য করব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ