


রাঁচি: ঝাড়খণ্ডের প্রত্যন্ত গ্রাম নেমরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সেখানে উপড়ে পড়া ভিড়। দূর-দূরান্ত থেকে প্রয়াত শিবু সোরেনকে শেষবার দেখতে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ। রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি ছিলেন গাঁ-দেহাতের অসংখ্য মানুষ। চোখের জলে তাঁরা চিরবিদায় জানালেন ‘দিশম গুরু’কে।
সোমবারই দিল্লির হাসপাতালে মৃত্যু হয় ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেনের। সেখানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা। মঙ্গলবার সকালে বিশেষ বিমানে প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দেহ নিয়ে আসা হয় রাঁচিতে। ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় প্রয়াত নেতাকে দল-মত নির্বিশেষে শেষ শ্রদ্ধা জানান বিধায়করা। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠাতাকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি বিজেপি নেতা চম্পাই সোরেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সেখান থেকে দেহ নিয়ে যাওয়া হয় পৈতৃক ভিটা নেমরায়।
সেখানে ছিল শোকার্ত অনুগামীদের ভিড়। প্রয়াত নেতার জাতীয় পতাকায় ঢাকা কফিনে ফুল, মালা ও শাল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তাঁরা। স্লোগান ওঠে, ‘গুরুজি অমর রহে’। প্রয়াত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সহ অন্যান্য নেতানেত্রীরা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ভারতরত্ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পূর্ণিয়ার সাংসদ পাপ্পু যাদব। শিবু সোরেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঝাড়খণ্ডে যান তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ও।
শিবুর প্রয়ানে শোকে পাথর গোটা পরিবার। অসুস্থ শিবুর স্ত্রী রুপি সোরেনকে বারবার স্বামীর দেহের ওপর কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। দিল্লি থেকে রাঁচি, সেখান থেকে নিমরা। গোটা পথটাই বাবার মরদেহের সঙ্গে ছিলেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। কাঁধের গামছায় বারবার চোখ মুছতে দেখা যায় তাঁকে। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘ন্যায়ের জন্য বাবার সংগ্রাম কোনও বই বাখ্যা করতে পারবে না। আমার ওপর থেকে বাবার ছায়া সরে গেল। তিনি ছিলেন আমার পথপ্রদর্শক। বহু ঝাড়খণ্ডবাসীকে তিনি বনের মতো সূর্যের তাপ থেকে রক্ষা করতেন।’ সমাজমাধ্যমে শিবু সোরেনের ছোটবেলা, লড়াই করে বেড়ে ওঠার কথাও কথাও তুলে ধরেছেন হেমন্ত। তিনি আরও লিখেছেন, ‘ছোটবেলায় বাবাকে জিজ্ঞেস করতাম, তোমায় দিশম গুরুজি কেন বলা হয়? বাবা হেসে বলতেন, আমি তাঁদের যন্ত্রণা, লড়াই নিজের করে নিয়েছি বলে।’ অবহেলিত-নিপীড়িত মানুষের জন্য বাবার লড়াই জারি রাখারও বার্তা দিয়েছেন তিনি।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রয়াণে ৩ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে ঝাড়খণ্ডে। মঙ্গলবার বেশিরভাগ স্কুলই বন্ধ রাখা হয়েছিল। এদিন অর্ধদিবস বন্ধ ছিল রাঁচির বেশিরভাগ দোকানপাট। রাজ্য বিধানসভার বাদল অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। শিবু সোরেনের শেষযাত্রায় ভিড়। ছবি: পিটিআই