রাসযাত্রার সঙ্গেই পুজো মা বিন্ধ্যবাসিনীর। আবার সেখানেই বিয়ে করতে আসেন স্বয়ং শিব! বৈষ্ণব, শাক্ত ও শৈব রীতিনীতির এমন মিলন চোখে পড়ে হুগলির বলাগড়ের শ্রীপুর গ্রামে। আরও ভালোভাবে বললে মিত্র মুস্তাফিদের বাড়িতে। ৩১২ বছর ধরে চলে আসছে শ্রীপুর শিব বারোয়ারি রাসমেলা।
Advertisement
দীনবন্ধু মিত্রের লেখায় রয়েছে, ‘সুন্দর শ্রীপুর যত মস্তফীর বাস/বড় পল্লী বলাগড়, বল্লালের দাস।’ মিত্র মুস্তাফিরা ছিলেন আদতে নদীয়ার উলা গ্রামের বাসিন্দা। সেই পরিবারের সন্তান রঘুনন্দন মিত্র মুস্তাফি ছিলেন সাধক প্রকৃতির মানুষ। সাধনার জন্যই ১৭০৭ সাল নাগাদ চলে আসেন হুগলিতে গঙ্গা তীরবর্তী আটিশ্যাওড়া অঞ্চলে (বর্তমানে শ্রীপুর)। সেখানে কীভাবে বসবাস গড়ে তুললেন সাধক রঘুনন্দন? এনিয়ে দু’টি মত রয়েছে।
একটি মতে, সেসময় এলাকাটি ছিল বাঁশবেড়িয়ার রাজাদের অধীনে। মিত্র মুস্তাফিদের মতোই বাঁশবেড়িয়ার রাজারাও ছিলেন এককালে মুঘল সম্রাটদের বিশ্বস্ত কর্মচারী। সেই পরিচয়ের সুবাদে বাঁশবেড়িয়ার রাজা রঘুনন্দনকে ৭৫ বিঘা জমি দান করেন। আরও কিছু জমি কিনে নেন রঘুনন্দন। অন্য মত অনুসারে, নদীয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় স্বয়ং রঘুনন্দনকে এই আটিশ্যাওড়া অঞ্চল জায়গির হিসেবে দিয়েছিলেন।
সে যাই হোক, রঘুনন্দনের স্ত্রী ছিলেন বৈষ্ণব মনোভাবাপন্ন। আর রঘুনন্দন শাক্ত সাধক। স্ত্রীর ইচ্ছায় কূলদেবতা গোবিন্দজিউকে প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। গড়ে ওঠে অনন্য সুন্দর চণ্ডীমণ্ডপ, রাসমঞ্চ। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সহযোগিতায় শুরু হয় রাস উৎসব। এদিকে, রঘুনন্দন নিজে ছিলেন শাক্ত। এলাকার বেশিরভাগ মানুষও শাক্ত। তাই ১৭১৩ সালে রঘুনন্দন ওই রাসোৎসবের সময়ই শুরু করলেন লোকায়ত দেবী বিন্ধ্যবাসিনীর পুজো। এই উৎসবে মিলেমিশে গিয়েছে শাক্ত, শৈব ও বৈষ্ণব লোকাচার। রাসোৎসবের পাশাপাশি তান্ত্রিক দেবী বিন্ধ্যবাসিনীর সঙ্গে বিয়ে হয় শিবঠাকুরের। তিনদিন ধরে চলে বিয়ের আসর। গ্রামের কারও বাড়িতে হাঁড়ি চড়ে না। হয় পশুবলিও। পাত্র স্বয়ং মহেশ্বর। মিত্র মুস্তাফিরা বরপক্ষ। আবার মা বিন্ধ্যবাসিনী কনে। গ্রামবাসীরা কনেপক্ষ।
রীতি অনুযায়ী, মিত্র মুস্তাফি বাড়ি থেকে দোলনায় চেপে বরযাত্রী সহ আইবুড়োভাত খেতে গ্রামের বাড়ি বাড়ি যান শিব। পরের দিন ভোরে রাসমঞ্চের কাছে শিব ও বিন্ধ্যবাসিনীর বিবাহ হয়। চারদিন ধরে বসে যাত্রাপালা, কবিগান, পালাগান, বাউল গানের আসর।
একটি মতে, সেসময় এলাকাটি ছিল বাঁশবেড়িয়ার রাজাদের অধীনে। মিত্র মুস্তাফিদের মতোই বাঁশবেড়িয়ার রাজারাও ছিলেন এককালে মুঘল সম্রাটদের বিশ্বস্ত কর্মচারী। সেই পরিচয়ের সুবাদে বাঁশবেড়িয়ার রাজা রঘুনন্দনকে ৭৫ বিঘা জমি দান করেন। আরও কিছু জমি কিনে নেন রঘুনন্দন। অন্য মত অনুসারে, নদীয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় স্বয়ং রঘুনন্দনকে এই আটিশ্যাওড়া অঞ্চল জায়গির হিসেবে দিয়েছিলেন।
সে যাই হোক, রঘুনন্দনের স্ত্রী ছিলেন বৈষ্ণব মনোভাবাপন্ন। আর রঘুনন্দন শাক্ত সাধক। স্ত্রীর ইচ্ছায় কূলদেবতা গোবিন্দজিউকে প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। গড়ে ওঠে অনন্য সুন্দর চণ্ডীমণ্ডপ, রাসমঞ্চ। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সহযোগিতায় শুরু হয় রাস উৎসব। এদিকে, রঘুনন্দন নিজে ছিলেন শাক্ত। এলাকার বেশিরভাগ মানুষও শাক্ত। তাই ১৭১৩ সালে রঘুনন্দন ওই রাসোৎসবের সময়ই শুরু করলেন লোকায়ত দেবী বিন্ধ্যবাসিনীর পুজো। এই উৎসবে মিলেমিশে গিয়েছে শাক্ত, শৈব ও বৈষ্ণব লোকাচার। রাসোৎসবের পাশাপাশি তান্ত্রিক দেবী বিন্ধ্যবাসিনীর সঙ্গে বিয়ে হয় শিবঠাকুরের। তিনদিন ধরে চলে বিয়ের আসর। গ্রামের কারও বাড়িতে হাঁড়ি চড়ে না। হয় পশুবলিও। পাত্র স্বয়ং মহেশ্বর। মিত্র মুস্তাফিরা বরপক্ষ। আবার মা বিন্ধ্যবাসিনী কনে। গ্রামবাসীরা কনেপক্ষ।
রীতি অনুযায়ী, মিত্র মুস্তাফি বাড়ি থেকে দোলনায় চেপে বরযাত্রী সহ আইবুড়োভাত খেতে গ্রামের বাড়ি বাড়ি যান শিব। পরের দিন ভোরে রাসমঞ্চের কাছে শিব ও বিন্ধ্যবাসিনীর বিবাহ হয়। চারদিন ধরে বসে যাত্রাপালা, কবিগান, পালাগান, বাউল গানের আসর।



