গ্লাসগো: দু’বছর বয়সেই পোলিওতে আক্রান্ত। অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। বিয়ের পরেও দুর্ভোগের একশেষ। জোড়া কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ায় শ্বশুরবাড়িতে চরম লাঞ্ছনা। এক রাতে স্বামীর বেদম মারের পর ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন শর্মিলা ধনকড়। কমনওয়েথ গেমসের প্যারা শটপাটে সেই দুয়োরানির হাত ধরেই এল সোনা। এফ৫৭ বিভাগে ৯.৮১ মিটার থ্রো করেন তিনি। এই বিভাগে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন ভারতেরই শিল্পা শাইলা। ভারতের প্রথম প্যারা অ্যাথলিট হিসাবে কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের ইতিহাস গড়ার পর আবেগের জোয়ারে ভাসলেন ৩৯ বছরের শর্মিলা। তাঁর মন্তব্য, ‘কন্যা সন্তান মানতে পারে না অনেকেই। এই মেডেল তাদের জবাব। এবার এশিয়ান গেমসে সোনা জেতাই লক্ষ্য।’ পুরস্কারের টাকায় একটা বাড়ি কেনারও পরিকল্পনা রয়েছে হরিয়ানার লড়াকু কন্যার। চলতি গ্লাসগো গেমসে এই প্রতিবেদন ছাড়া পর্যন্ত ভারতের ঝুলিতে ২টি সোনা সহ রয়েছে মোট ১২টি পদক।
মঙ্গলবার মহিলাদের ভারোত্তোলনে রুপো জিতলেন হারজিন্দর কাউর। ৬৯ কেজি বিভাগে মোট ২২৭ কেজি ওজন (স্ন্যাচে ১০১, ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১২৬) তুলে পদক নিশ্চিত করেন তিনি। এই ইভেন্টে ২৪০ কেজি তুলে সোনা জেতেন কানাডার শারলট সিমোনিউ। সেই সঙ্গে এই বিভাগে গেমসের নয়া রেকর্ড গলেন ২১ বছর বয়সি এই অ্যাথলিট। ২১৮ কেজি তুলে ব্রোঞ্জ জেতেন অস্ট্রেলিয়ার না ফেবে হেমান।
দিনের অন্য ইভেন্টে পুরুষদের ১০ হাজার মিটার ফাইনালে রুপো জেতেন গুলবীর সিং। ২৭ মিনিট ৪৯.৭৮ সেকেন্ডে দৌড় সম্পন্ন করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার কাই রবিনসন ২৭ মিনিট ৪৮.৯৩ সেকেন্ডে শেষ করে সোনা জেতেন। একইসঙ্গে বক্সিংয়ে পদক নিশ্চিত করেন প্রীতি পাওয়ার (মহিলাদের ৫৪ কেজি বিভাগে), প্রিয়া ঘানঘাস (মহিলাদের ৬০ কেজি বিভাগে) ও জাদুমনি সিং (পুরুষদের ৫৫ কেজি বিভাগে)। এরাঁ প্রত্যেকেই শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেন। তবে মহিলাদের ৬৫ কেজি বিভাগে কোয়ার্টার-ফাইনালেই বিদায় নেন পরভীন হুদা।
এছাড়া পুরুষদের হাই জাম্পে রুপো জিতলেন সর্বেশ কুশারে। প্রথম ভারতীয় হিসাবে কমনওয়েলথ গেমসের হাই জাম্পে পদক পেলেন তিনি (২.২৫ মিটার)। সোনা জেতেন জামাইকার বেকফোর্ড। পুরুষদের ভারত্তোলনে অজয় বাবু হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর রুপো পান। ৭৯ কেজির ফাইনালে স্ন্যাচ এবং ক্লিন-জার্ক মিলিয়ে ৩৩০ কেজি তোলেন অজয় বাবু। শীর্ষে মালয়েশিয়ার এরি মহম্মদ (৩৩১ কেজি)। স্ন্যাচে ১৪৯ কেজি ওজন তুলে গেমস রেকর্ড গড়েছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের লিফটার।