রাস্তা থেকে দ্রুত তোরণ সরাতে পুজো কমিটিগুলির কাছে আবেদন শংকরের
  • ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: উৎসবের রেশ কাটতেই শহরকে ফের শৃঙ্খলায় ফেরানোর উদ্যোগ নিল শিলিগুড়ি প্রশাসন। পুজো শেষ হলেও শহরের বিভিন্ন রাস্তার উপরে এখনও রয়ে গিয়েছে বড়ো বড়ো তোরণ। তার জেরে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে, বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা। দ্রুত সেই তোরণগুলি খুলে নেওয়ার জন্য পুজো কমিটিগুলির কাছে আবেদন জানালেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ।

Advertisement

শনিবার পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা এবং পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে শহরের একাধিক জনবহুল রাস্তা পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় হিলকার্ট রোড, বিধান রোড, সেবক রোড সহ বিভিন্ন রাস্তায় পুজোর তোরণ থেকে যাওয়ায় যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে বলে স্বীকার করেন তিনি। শংকর ঘোষ বলেন, পুজো কমিটিগুলির কাছে আমার আবেদন, দ্রুত তোরণগুলি খুলে ফেলুন। আশা করব, আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে কমিটিগুলি এই কাজ করবে। তা না হলে আগামী বছর পুজোর অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।
এ বছরের পুজোয় কিছু ক্লাবের বিরুদ্ধে একাধিক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নির্দেশিকা লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছেন মন্ত্রী। বিশেষ করে বিসর্জনের দিন কয়েকটি পুজো কমিটির সদস্যদের আচরণ এবং প্রতিমা নিয়ে আসা গাড়িগুলির বেহাল অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। আগামী বছর যাতে এই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য আগামী ডিসেম্বর মাসেই পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে বৈঠক করে পরবর্তী পুজোর প্রশাসনিক নির্দেশিকা জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান শংকর ঘোষ।
অন্যদিকে, পুজো উপলক্ষ্যে শহরের বিভিন্ন রাস্তার দু’ধারে খাবারের দোকান বসায় পথচারী ও যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বাঘাযতীন পার্কে রাস্তার উপর ফের গজিয়ে ওঠা নানা ধরনের খাবারের দোকানে ভিড় সমস্যা বাড়াচ্ছে। পুজো শেষ হলেও সন্ধ্যার পর ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা কার্যত দুর্বিষহ হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ। রাস্তা দখল করে দোকান বসানোর এই প্রবণতা বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো দোকানের সামনে নতুন করে আরএকটি দোকান বসতে দেওয়া হবে না। শহরের রাস্তা দখলমুক্ত রাখা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে।
পুজোর কয়েক দিনের উৎসবমুখর পরিবেশের পর এবার শহরের স্বাভাবিক ছন্দ ফেরানোই প্রশাসনের লক্ষ্য। তোরণ সরানো থেকে শুরু করে রাস্তার দু’ধারে বেআইনি দোকান নিয়ন্ত্রণ-সব ক্ষেত্রেই প্রশাসন কতটা দ্রুত পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর শিলিগুড়িবাসীর।