দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই বিজেপিতে যোগদানের জন্য নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বিদ্রোহী তৃণমূলের একটি বড়ো অংশ। রাজ্য বিজেপির একাধিক সূত্রেই এমন দাবি করা হয়েছে। কিন্তু বিজেপির দরজা তৃণমূল কংগ্রেস এবং অন্যান্য প্রতিপক্ষ দলের জন্য বন্ধই থাকবে, বারবার এই মন্তব্য করছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। যদিও প্রাক্তন তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের সরাসরি বিজেপিতে যোগদান বন্ধ হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের তিনজন প্রাক্তন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন দলের টিকিটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভার সদস্যও হয়েছেন। তাহলে কি এবার বিজেপির দরজা তৃণমূলীদের জন্য পুরোপুরি খুলে গেল? এমন প্রশ্ন উঠছে বিজেপির অন্দরে। এই ইস্যুতে মঙ্গলবার অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীকবাবু। এদিন তিনি ‘বর্তমান’কে বলেছেন, ‘লোকসভা এবং বিধানসভা এক জিনিস নয়। দিল্লি এবং কলকাতাও এক নয়। নেতার থেকে দল বড়ো। দলের থেকে দেশ বড়ো।’
ফলে চর্চা শুরু হয়েছে যে, তাহলে কি বিজেপিতে আগামী দিনে শুধুই তৃণমূলের বিদ্রোহী এবং বিক্ষুব্ধ সাংসদরা যোগদান করতে পারবেন? দিল্লি এবং কলকাতার মধ্যে ফারাক টেনে আদতে কি সেটিই বোঝাতে চেয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি? উল্লেখ্য, বিজেপির শীর্ষস্তরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বড়ো অংশও চাইছে যে, সাংগঠনিক আস্ফালন বোঝানোর জন্য দলে তৃণমূলীদের যোগদান করানো হোক। দু’দিন আগেই কলকাতায় বঙ্গ বিজেপির কোর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। সেখানে বিজেপির অন্যতম কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের সর্বভারতীয় ভারপ্রাপ্ত নেতা সুনীল বনসলও উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, ওই বৈঠকে নির্দিষ্ট করে ভিন দল থেকে যোগদানের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কার্যত নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে যে, এসংক্রান্ত বিষয়ে অযথা একগুঁয়ে মনোভাব নিয়ে চলার প্রয়োজন নেই।
মঙ্গলবার বিজেপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, দিনকয়েকের মধ্যেই ফের দিল্লিতে আসতে পারেন শুভেন্দুবাবু। সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশিই এনসিপিআইয়ের সাংসদদের সঙ্গেও একপ্রস্থ বৈঠক করতে পারেন তিনি। ভালো তৃণমূল এবং খারাপ তৃণমূলের সংজ্ঞা পালটে আপাতত তৃণমূলীদের যোগদান সংক্রান্ত নীতি নিয়ম পরিবর্তনের পথেই হাঁটছে রাজ্য বিজেপি!