Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শালিমার: বুলডোজারে ধূলিসাৎ নেপালি বস্তির শতাধিক ঘর ও দোকান, গৃহহীন হয়ে পড়ল কয়েকশো পরিবার

শালিমার স্টেশনের নেপালি বস্তিতে বুলডোজার দিয়ে ধূলিসাৎ ১৬৫টি ঘর ও দোকান। গৃহহীন হলেন শতাধিক পরিবার। বিস্তারিত পড়ুন।

শালিমার: বুলডোজারে ধূলিসাৎ নেপালি বস্তির শতাধিক ঘর ও দোকান, গৃহহীন হয়ে পড়ল কয়েকশো পরিবার
  • ১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পাঁচ দিন আগে নোটিস ধরানো হয়েছিল। মাইকিংও চলেছিল টানা কয়েকদিন। মঙ্গলবার সকাল গড়াতেই শালিমার স্টেশন চত্বর কেঁপে উঠেছিল বুলডোজারের গর্জন আর বাঁশ-টিনের কাঠামো ভাঙার শব্দে। হাওড়া স্টেশন, বালি, টিকিয়াপাড়া, লিলুয়ায় উচ্ছেদের পর এদিন শালিমার স্টেশন সংলগ্ন নেপালি বস্তিতে বড়োসড়ো উচ্ছেদ অভিযান চালাল রেল কর্তৃপক্ষ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বহু বছরের বসতি ও দোকানঘর। এক লহমায় মাথার উপর থেকে ছাদ হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়ল শ’য়ে শ’য়ে পরিবার।

Advertisement

মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া অভিযানে নামানো হয় চারটি বুলডোজার ও একটি ক্রেন। মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক আরপিএফ, জিআরপি, রেল পুলিশ, হাওড়া সিটি পুলিশের র‌্যাফ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। রেল সূত্রে দাবি, শালিমার স্টেশন থেকে লোয়ার ফোরশোর রোড পর্যন্ত রেলের জমি বেআইনিভাবে দখল করে কয়েকশো বস্তি ঘর, দোকান ও অন্যান্য নির্মাণ গড়ে উঠেছিল। একাধিকবার নোটিস দেওয়া ও মাইকিং করে এলাকা খালি করার নির্দেশ সত্ত্বেও দখল না সরানোয় এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জমি ভবিষ্যতের রেল প্রকল্প, স্টেশন চত্বরের উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবহার করা হবে বলেও জানিয়েছে রেল। এদিনের উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ১৬৫টি দোকান ও বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবারও অভিযান চলবে। অন্যদিকে, ঘরহারাদের দাবি, ৫০-৬০ বছর ধরে তাঁরা এখানে বসবাস করছেন। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, বিদ্যুতের সংযোগ সবই এখানে। বহু পরিবারের ছেলেমেয়েরা এখানে স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করছে।
পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে এদিন বুলডোজারের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। তাঁদের আরও দাবি, বিষয়টি নিয়ে আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও উচ্ছেদ করা হয়েছে। যদিও রেল সেই অভিযোগ মানেনি। এদিন ঘরহারাদের পাশে দাঁড়ায় সিপিএম নেতৃত্ব। ঘর হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন লক্ষ্মীদেবী ঝা। তাঁর কথায়, অসুস্থ স্বামী আর ছোটো মেয়েকে নিয়ে এখন কোথায় যাব, জানি না। ভাতের হোটেল হারিয়ে শ্রাবণী দাস বলেন, স্ট্রোকে আক্রান্ত স্বামীকে নিয়ে তাঁর সংসার চলত ওই ছোট্ট হোটেলের আয়েই। ট্রেড লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও সব ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হলে ভিক্ষা করেই বাঁচতে হবে আমাদের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ