নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পুরানো রীতির সঙ্গে নতুন সময়ের ছাপ। ১২০ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা সাঁকরাইলের কোলোড়া গ্রামের শ্রাবণ মাসের গাজনে এবার সেই বদলের ছবি ধরা পড়ল ‘শালেভরে’। কলাগাছের ভেলায় তৈরি ঐতিহ্যবাহী কাঠামোয় জায়গা করে নিল বুলডোজার। সেই সঙ্গে রামমন্দির এবং পত্রের উপর অধিষ্ঠিত রামের মূর্তিও নজর কাড়ল উৎসবে আসা মানুষের।
বাংলায় পরিচিত গাজন উৎসব সাধারণত চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু শ্রাবণের শেষ পর্বে হয় কোলোড়ার ধর্মঠাকুরের গাজন। স্থানীয়দের কথায়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই নিয়মে এই উৎসব হয়ে আসছে। পুজোর প্রায় ন’দিন আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি।
নির্দিষ্ট আচার মেনে সন্ন্যাসীরা শাড়ি ও ধুতি ধারণ করেন। মূল পর্বের আগের দিন চলে নিরামিশ আহার ও উপবাস। উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ‘শালেভর’। শনিবার সেই অনুষ্ঠানকে ঘিরে জমজমাট হয়ে ওঠে কোলোড়া। কলাগাছের ভেলা সাজিয়ে তার উপর তৈরি করা হয় নানা প্রতিকৃতি ও কাঠামো। মাঝখানে থাকে তলোয়ার। আগে যেখানে মূলত পুরানো রীতির কাঠামো দেখা যেত, সময়ের সঙ্গে সেখানে ঢুকেছে সমকালীন ভাবনা। নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ায় প্রতি বছরই বদলাচ্ছে শালেভরের বিষয়। এ বার বুলডোজারকে সামনে রেখে সেই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট। বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজে বুলডোজার ব্যবহারের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ থিমের ভাবনায় প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। পাশাপাশি ধর্মীয় ভাবনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য বছর শালেভরে দেখা গিয়েছে রামমন্দির এবং রামের মূর্তি। এরপর রয়েছে নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচার। এলাকার পুকুরে শালেভর ভাসানোর পর ধর্মঠাকুরের পুজো হয়। পুজো শেষে সেটি জল থেকে তুলে এনে তার উপর সন্ন্যাসীদের শোয়ানো হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী ঝাঁপ। গাজনকে কেন্দ্র করে বসে মেলাও। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের অংশগ্রহণে জমে ওঠে মেলা। বিশ্বাসের সঙ্গে নতুন ভাবনার এই মেলবন্ধনই কোলোড়ার গাজনকে প্রতি বছরই আলাদা করে তুলছে।