উত্তরবঙ্গের প্রাচীনতম শৈবতীর্থ জল্পেশ মন্দির। এই মন্দির নিয়ে শোনা যায় নানান কথা। একদিকে যেমন জল্পেশ মন্দির গড়ে ওঠার পিছনে কোচবিহারের রাজা প্রাণনারায়ণের নাম উঠে আসে, তেমনই কামরূপের রাজা জল্পকে নিয়েও নানান কথা প্রচলিত রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের প্রাচীনতম শৈবতীর্থ জল্পেশ মন্দির। এই মন্দির নিয়ে শোনা যায় নানান কথা। একদিকে যেমন জল্পেশ মন্দির গড়ে ওঠার পিছনে কোচবিহারের রাজা প্রাণনারায়ণের নাম উঠে আসে, তেমনই কামরূপের রাজা জল্পকে নিয়েও নানান কথা প্রচলিত রয়েছে।
প্রচলিত আছে, ছেলের অকাল মৃত্যুর পর প্রবল শোকগ্রস্ত হয়ে পড়েন রাজা জল্প। উপায়ান্তর না দেখে পুত্রশোকে কাতর পিতা হাজির হন বশিষ্ঠ মুনির আশ্রমে। পুত্রশোক ভোলার জন্য কী করা যায়, তা জানতে চান। সেই সময় তাঁকে মহাকাল বনে যাওয়ার জন্য বলেন বশিষ্ঠ মুনি। বর্তমানে যেখানে জল্পেশ মন্দির, সেখানে তখন ছিল মহাকাল বন। মহাকাল বনে পঞ্চমুণ্ডির আসন স্থাপন করে সাধনা শুরু করেন রাজা জল্প। তাঁর সাধনায় সন্তুষ্ট হন দেবাদিদেব মহাদেব। তিনি রাজা জল্পকে বলেন, ‘কী বর চাও?’ জল্প তখন মহাদেবকে বলেছিলেন, ‘আপনি আমার নামে অভিহিত হন।’ এরপর সেখানে মন্দির স্থাপন হয়, যেটি জল্পেশ্বর মন্দির নামে পরিচিত। অপরদিকে শোনা যায় আরও একটি ঘটনার কথা। কোচবিহারের রাজা প্রাণনারায়ণ একবার এখানে শিকারে এসেছিলেন। একদিন রাজার সৈন্যরা দেখতে পান, একটি কামধেনু মাটির ঢিবিতে দুধ দিচ্ছে। মহারাজা তাঁর সৈন্যদের জানান, গাভীটিকে ধরে আনতে। তবে সেই কামধেনুকে ধরতে গিয়ে আর তার হদিশ পায়নি সৈন্যরা। এদিকে, মহারাজকে স্বপ্নে দর্শন দেন স্বয়ং মহাদেব। তিনি জানান, তুমি আমাকে প্রতিষ্ঠা কর। এরপর সেই উঁচু মাটির ঢিবিতে শিবলিঙ্গ খুঁজে পান রাজা। শুরু হয় মন্দির নির্মাণের কাজ। প্রাণনারায়ণের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মদনারায়ণ ১৬৭৮ সালে এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন। আগ্রা থেকে কারিগর এসেছিল মন্দিরটি তৈরি করতে। জল্পেশ মন্দির কমিটির সম্পাদক গিরেন্দ্রনাথ দেব বলেন, এই মন্দির তৈরি নিয়ে নানা কথা প্রচলিত রয়েছে। এখানে যে শিবলিঙ্গে পুজো হয় সেটা অনাদি। ভৈরবকে জল্পেশ রূপে এখানে পুজো করা হয়।