সুপ্রাচীন জনপদ বরানগরে ছড়িয়ে অজস্র মঠ-মন্দির-মসজিদ-গির্জা। বিশেষ করে এখানকার বেশ কিছু প্রাচীন শিবমন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। অনেকে এজন্য এই অঞ্চলকে শৈবতীর্থ বরানগরও বলে থাকেন। বিভিন্ন আঞ্চলিক পত্র-পত্রিকা ও গ্রন্থে এখানকার প্রাচীন শিব মন্দিরগুলির উল্লেখ রয়েছে। এগুলির মধ্যে অন্যতম গোলকচন্দ্র মুখোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠিত দু’টি শিব মন্দির, প্রামাণিক ঘাট রোডে চারটি শিব মন্দির (প্রতিষ্ঠা বাংলা সাল ১২৫৯)। এছাড়াও রয়েছে মহারাজা নন্দকুমার রোডে (দক্ষিণ) রামমোহন পার্ক সংলগ্ন একটি শিব মন্দির। নাম শ্রীশ্রী ভৈরবেশ্বর শিব মন্দির (১২২৫ সনে স্থাপিত)। দেশবন্ধু রোড আলমবাজার মোড়ের শিব মন্দিরের প্রতিষ্ঠাকাল আনুমানিক ১২৩৯ সাল। ব্যানার্জি পাড়া তেঁতুলতলার কাছে রয়েছে একটি প্রাচীন শিবমন্দির। বরানগর ভিক্টোরিয়া স্কুলের বিপরীতে ১২৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দু’টি শিবমন্দির। কুটিঘাট সংলগ্ন মাতৃস্নান ঘাটে রয়েছে গঙ্গেশ্বর ও শঙ্করেশ্বর শিবমন্দির। অমৃতেশ্বর বুড়ো শিবের মন্দির প্রসঙ্গে প্রয়াত ইতিহাসবিদ অজিত সেন তাঁর ‘বরানগর আঞ্চলিক ইতিহাস’ গ্রন্থে লিখেছেন, কৃষ্ণধন মুখোপাধ্যায় ১২৮৩ সালে এই শিবমন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। তা এলাকায় বুড়ো শিবমন্দির তলা নামে পরিচিত। ওই গ্রন্থে লেখা হয়েছে, ‘স্বামী বিবেকানন্দ এখানে মাঝেমধ্যে পুজো করতে আসতেন।’এস পি ব্যানার্জি রোডে জোড়া শিবমন্দিরের পাশাপাশি বাঘাযতীন রোড, পাঠবাড়ি লেন, ইনস্টিটিউট লেন, বি কে মৈত্র রোডেও রয়েছে প্রাচীন শিবমন্দির। বরানগর আলমবাজার ঘাট চত্বর সংলগ্ন এলাকার দ্বাদশ শিবের মন্দির ঘিরে রয়েছে একগুচ্ছ ইতিহাস। ‘বরানগরের নানা ইতিহাস’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, কলকাতার পাথুরিয়াঘাটা নিবাসী প্রসিদ্ধ ঘোষবংশীয়গণের পূর্বপুরুষ রামলোচন ঘোষ হেস্টিংসের দেওয়ান ছিলেন। তিনি বহু অর্থ ব্যয় করে ওই দ্বাদশ শিবমন্দির নির্মাণ করে ছিলেন। পাশাপাশি একটি সুন্দর প্রশস্ত ঘাটও নির্মাণ করেছিলেন। এমন একজন মানুষের মৃত্যু সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল ১৮২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ‘সমাচার দর্পণে’। বরানগর কুটিঘাট অঞ্চলে জেলেপাড়ার কাছে জয় মিত্র কালীবাড়ির ভিতরে রয়েছে দ্বাদশ শিবমন্দির। এছাড়াও রয়েছে আরও নানা প্রাচীন শিব মন্দির। কোনটি সর্বজনীন। কোনটি ব্যক্তিগত। প্রাচীনত্বের দিক থেকে এই সমস্ত শিব মন্দিরের গুরুত্বও কম নয়।



