


নয়াদিল্লি: ‘বন্দেমাতরম’। ভারতের জাতীয় গান। সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রথম ঘোষণাও। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই কালজয়ী সৃষ্টির সার্ধশতবর্ষ পূর্তির প্রাক্কালে বৃহস্পতিবার এই ভাষাতেই শ্রদ্ধার্ঘ্য জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি লিখেছেন, ১৮৭৫ সালে জগদ্ধাত্রী পুজোর পবিত্র প্রভাতে বঙ্কিমচন্দ্র রচনা করেছিলেন এমন এক স্তোত্র, যা পরবর্তীকালে হয়ে ওঠে ভারতের স্বাধীনতার শাশ্বত সংগীত। ‘বন্দেমাতরম’ কেবল এটি আমাদের শিখিয়েছিল—ভারত কেবল একটি ভৌগোলিক সীমানা নয়; এটি এক জীবন্ত সভ্যতা, যার বন্ধন রচিত হয়েছে সংস্কৃতি, স্মৃতি, ত্যাগ, বীরত্ব ও মাতৃত্বের সূত্রে। ‘আনন্দমঠ’ কেবল উপন্যাস নয়, গদ্যে লেখা এক মন্ত্র, যা নিদ্রিত ভারতকে জাগিয়ে তুলেছিল আত্মবিশ্বাসে ও ভক্তিতে।
বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই বলেছিলেন, ‘আমার অন্য সব রচনা গঙ্গায় ভেসে যাক, কিন্তু এই একটিমাত্র স্তোত্র—‘বন্দেমাতরম’—চিরকাল বেঁচে থাকবে, মানুষের হৃদয়ে স্থান পাবে।’ সত্যিই তা হয়েছে, স্বীকার করেছেন অমিত শাহ। তিনি আরও লিখেছেন, ‘১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন ‘বন্দেমাতরম’কে সুরে বাঁধেন ও কলকাতা কংগ্রেস অধিবেশনে গানটি পরিবেশন করেন, তখনই এই স্তোত্র পায় অমরত্ব। ভাষা, প্রদেশ ও প্রজন্মের সীমা অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র ভারতে। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় ব্রিটিশ সরকার ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়া নিষিদ্ধ করে। কিন্তু ১৯০৬ সালের ১৪ এপ্রিল, বরিশালে হাজার হাজার দেশবাসী সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একসঙ্গে গেয়েছিলেন এই গান। ক্ষুদিরাম বসু থেকে আশফাকুল্লাহ খান, চন্দ্রশেখর আজাদ থেকে তিরুপ্পুর কুমারন—সকলের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে এই স্লোগান।’ এই অমর স্তোত্রের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারত সরকার ৭ নভেম্বর থেকে শুরু করছে এক বছরের জাতীয় উদ্যাপন। তারই অংশ হিসেবে এদিন কলম ধরেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।