নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী স্কুল পার্ক ইনস্টিটিউশনের হস্টেলে আবাসিক ছাত্রীরা কেন একে থেকে অসুস্থ হল, তা নিয়ে মঙ্গলবারও পুরোপুরি ধোঁয়াশা কাটেনি। আর জি কর মেডিকল কলেজ কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এখনও পর্যন্ত ছাত্রীদের শরীরে ফুড পয়েজনিং বা অ্যাকিউট ডায়রিয়ার চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাদের কেউই লাগাতার বমি বা পায়খানা করছে না। প্যানিক অ্যাটাকও হয়ে থাকতে পারে। হাসপাতালে ভরতি ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সি (ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির) ২৬ জন ছাত্রীর মধ্যে মঙ্গলবার তিনজনের জ্বর ছিল। এদিন আরও সাতজন ছাত্রীকে অসুস্থ অবস্থায় আর জি করে ভর্তি করানো হয়। মোট ৩৩ জন অসুস্থ ছাত্রীর মধ্যে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় এদিন ১৬ জনকে ছুটি দেওয়া হয়েছে।
আর জি কর-এর সুপার তথা উপাধ্যক্ষ ডাঃ সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বুক-পেটে জ্বালাভাব, ব্যথা থেকে আমাদের চিকিৎসকরা মনে করছেন, গ্যাসট্রাইটিস জাতীয় অন্ত্রের সমস্যা সকলেরই কমবেশি হতে পারে। কয়েকজনের জ্বর হওয়ায় এটি এক ধরনের ভাইরাল গ্যাসট্রাইটিস বলেই সন্দেহ করা হচ্ছে।’ সোমবার রাত সাড়ে ১১ টা-১২টা নাগাদ হাসপাতালে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সুপার, অধ্যক্ষকে ছাত্রীদের চিকিৎসায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
স্কুলের জল, রান্নার উপাদান বা মিড ডে মিল থেকে সংক্রমণের আশঙ্কাও যে স্বাস্থ্যদপ্তর পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না, তা এদিন বেলেঘাটার নিরবি (আগে নাইসেড) এবং স্বাস্থ্যদপ্তরের টিমের হস্টেলের রান্নাঘর পরিদর্শন থেকেই প্রমাণিত। এসেছি পুর স্বাস্থ্য বিভাগ ও ফ্যাসাইয়ের প্রতিনিধিদলও। মালঞ্চের আরতি সর্দার, কালীনগরের রূপা গোস্বামীর মতো বহু অভিভাবক এদিন বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ হস্টেলের জলের ট্যাঙ্ক সংক্রমণের উৎস হতে পারে।’ অভিভাবক মহলের একাংশের অভিযোগ, এর আগে এখানকার রান্না করা সোয়াবিনে পোকা পাওয়া গিয়েছিল। কয়েকজন ছাত্রী আগেও অসুস্থ হয়েছে। প্রধান শিক্ষিকা অলকানন্দা মজুমদার বলেন, ‘উদ্ভুত পরিস্থিতিতে এক সপ্তাহ হস্টেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জলের ট্যাঙ্ক বছরে দু’বার পরিষ্কার হয়। মাধ্যমিকের আগে একবার হয়েছিল। আর একবার হওয়ার কথা ছিল।’
সোমবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আসতে থাকা অসুস্থ ছাত্রীদের সঙ্গে আধার কার্ড ছিল না। তাতে চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়। বাইরে তুমুল বৃষ্টিপাতের মধ্যেই হাসপাতালের দু’টি অ্যাম্বুলেন্স তিনবার যাতায়াত করে ট্রমা কেয়ার ইমার্জেন্সি থেকে ইমার্জেন্সি বাড়িতে নিয়ে যায় ছাত্রীদের। জল নামাতে পূর্তদপ্তর এবং কলকাতা পুরসভাকে জানানো হয়। দু’টি মোটর চালু করেও আর জি করের জল প্রথমে নামেনি। তারপর খবর দেওয়া হয় দমকলে। কলকাতা পুরসভা জল শুষে নেওয়ার বিশেষ গাড়ি পাঠায়। গভীর রাতে এসব পর্ব ঘন্টা দুয়েক চলার পর জল নামে। হাসপাতালের শিশুবিভাগে ভরতি এই ছাত্রীদের কয়েকজনের শুরুতে শ্বাসকষ্ট হয়েছিল। অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হয়। তারপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।