


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খারাপ, আরও খারাপ, তারপর আসে ইস্ট বেঙ্গল। সুপার কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বিদেশিহীন ডেম্পোর বিরুদ্ধে ড্র করল অস্কার-ব্রিগেড। ম্যাচের ফল ২-২। তার ফলে টুর্নামেন্টের শুরুতেই চাপে পড়ল ইস্ট বেঙ্গল। মঙ্গলবার তাদের প্রতিপক্ষ চেন্নাইয়ান এফসি।
ডেম্পোর সোনালি দিন অতীত। গোয়া প্রো লিগে খেলা একঝাঁক ফুটবলার সমীর নায়েকের ভরসা। এই ডেম্পোকে পেয়েও ভেজা মুড়ির মতো চুপসে রইল ইস্ট বেঙ্গল। গোলে দেবজিৎকে খেলানো ঐতিহাসিক ভুল। শিল্ড ফাইনালের পরেই মানসিক চাপে তিনি। গিলকে বেঞ্চে রাখার যুক্তি নেই। ২৭ মিনিটে দেবজিতের অমার্জনীয় ভুলেই গোল হজম করে ইস্ট বেঙ্গল। ছ’গজের বক্সে ফ্লাইট মিস করে ডোবালেন তিনি। জাল কাঁপিয়ে অবাক মহম্মদ আলিও (১-০)। দেবজিতের উচিত এবার গ্লাভস আলমারিতে তুলে রাখা।
ইস্ট বেঙ্গল ম্যাচে ফেরে দ্বিতীয়ার্ধে। ভুল শুধরে মিগুয়েলকে মাঠে নামান অস্কার। বৃষ্টির মাঠে তাঁর জোরালো শট ডেম্পো গোলরক্ষক সাময়িক প্রতিহত করেন। জোরালো প্লেসিংয়ে লক্ষ্যভেদ নাওরেম মহেশের (১-১)। দশ মিনিট পরেই লিড নেয় ইস্ট বেঙ্গল। বাঁ দিকে গোললাইন বরাবর বল বাড়িয়েছিলেন লালচুংনুঙ্গা। এক্ষেত্রে বাঁ পায়ের আউটসাইডে কামান দাগেন ব্রাজিলিয়ান। প্রায় শূন্য ডিগ্রি থেকে বল সোয়ার্ভ করে জালে জড়ায়। ১৯৮৮’র ইউরো ফাইনালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মার্কো ফন বাস্তেনের বিখ্যাত গোলের স্মৃতি ফিরল। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তাঁর গোল দাম পেল না। পিছিয়ে পড়া ডেম্পোকে পিষে ফেলার সুযোগ হারালেন অস্কার। অহেতুক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাশুল গুনতে হল ড্র করে। রাইট উইং ব্যাকে আনোয়ারকে সরিয়ে সাউলকে স্টপারে আনার অর্থ বোঝা দায়। ৮৯ মিনিটে গোল শোধ ডেম্পোর। লক্ষ্মণরাওর গড়ানো শটে জাল কাঁপানোর আগে টানা আটটি পাস খেলে গোয়ার দলটি। রশিদ, সাউলরা স্রেফ দর্শক। চূড়ান্ত ব্যর্থ দেবজিৎও হতভম্ব।
ভারতীয় ফুটবলে পার্থক্য গড়েন বিদেশিরাই। ইস্ট বেঙ্গলে ঠিক উল্টো। দিয়ামানতাকোসকে ছেঁটে হিরোশিকে সই করিয়েছে ইস্ট বেঙ্গল ম্যানেজমেন্ট। শুরুতে জাপানির শট ক্রসপিসে প্রতিহত হয়। বাকিটা সান্ধ্যাকালীন ভ্রমণ সারলেন। মিউজিয়াম থেকে নন্দকুমারকে টেনে এনেছিলেন অস্কার। কিন্তু দলের মতো তাঁর আত্মবিশ্বাসও তলানিতে।
ইস্ট বেঙ্গল: দেবজিৎ, রাকিপ (মিগুয়েল), আনোয়ার, জয় (লালচুংনুঙ্গা),সাউল, রশিদ, মহেশ, বিপিন (নন্দ), হিরোশি (এডমুন্ড) ও হামিদ (ডেভিড)।
ইস্ট বেঙ্গল-২ : ডেম্পো-২
(মহেশ, মিগুয়েল) (আলি, রানে)