নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: একই রাতে বারাসত শহরের দু’প্রান্তে দুই গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। একজনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল শ্বশুরবাড়ি থেকে। অন্যজন শ্বশুরবাড়ি থেকে বাপের বাড়িতে ফিরে আত্মঘাতী হলেন। দুই ক্ষেত্রেই মৃতাদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে বারাসত থানার পুলিশ। দেহ দু’টি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বারাসতের শালবাগানের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ বসুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল দমদমের রিয়া দেবনাথের। একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি সূত্রে তাঁদের পরিচয়। পরিবারের আপত্তি থাকলেও মাস তিনেক আগে প্রসেনজিৎকে বিয়ে করেন রিয়া। শালবাগানে সংসার শুরু হয়েছিল তাঁদের। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর প্রসেনজিতের আগের দু’টি বিয়ের কথা জানতে পারেন রিয়া। প্রথম স্ত্রী মারা গিয়েছেন। দ্বিতীয় স্ত্রী জীবিত। ওই পক্ষের একটি ছেলেও রয়েছে। সেই তথ্য গোপন করেই রিয়াকে বিয়ে করেছিলেন প্রসেনজিৎ, অভিযোগ মৃতার পরিবারের। বিষয়টি জানার পর থেকেই অশান্তি শুরু হয়। মদ্যপ অবস্থায় রিয়াকে মারধরের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাতে অশান্তির খবর পেয়ে দমদম থেকে শালবাগানে আসেন রিয়ার পরিজনরা। শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তাঁরা রিয়াকে গলায় ওড়নার ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। মৃতার মা সোনালি দেবনাথ বলেন, মেয়েকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত প্রসেনজিৎকে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হবে।
অন্য ঘটনাটি ঘটেছে বাদুর গুস্তিয়া এলাকায়। প্রেমের সম্পর্কের পর গত জানুয়ারি মাসে সৌম্যদীপ সেনগুপ্তকে বিয়ে করেন অর্ণবী চট্টোপাধ্যায়। অর্ণবীর মা কাকলি চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বাপের বাড়ি থেকে অতিরিক্ত টাকা আনার জন্য স্ত্রীর উপর চাপ দিতেন স্বামী, শ্বশুর সমীর ও শাশুড়ি মিতা সেনগুপ্ত। টাকা না দেওয়ায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। কয়েকদিন আগে বাপের বাড়ি চলে আসেন তিনি। অর্ণবীর বাবা মারা গিয়েছেন। মায়ের সঙ্গেই থাকতেন। মঙ্গলবার রাতে সংসার করার আশায় ফের শ্বশুরবাড়িতে যান। অভিযোগ, সেখানে তাঁকে অপমান করা হয়। সৌম্যদীপ জানিয়ে দেন, তিনি আর সংসার করবেন না। অর্ণবী ফিরে আসেন বাপের বাড়িতে। তখন মা বাড়িতে ছিলেন না। এরপর আত্মঘাতী হন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং পণের দাবিতে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের ধারায় মামলা হয়েছে। স্বামী সৌম্যদীপ, শ্বশুর সমীর ও শাশুড়ি মিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার বারাসত আদালত সৌম্যদীপের চারদিনের পুলিশ হেপাজত এবং বাকি দু’জনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে।