সংবাদদাতা, বহরমপুর: নবম শ্রেণির ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু ঘিরে বহরমপুরে চাঞ্চল্য ছড়াল। এঘটনায় মৃতার পরিবারের তরফে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলা হয়েছে। পরিবারের দাবি, স্কুলের এক শিক্ষিকা মেয়েটিকে শারীরিক নির্যাতন করেছে। তাতেই অপমানিত হয়ে ওই ছাত্রী আত্মঘাতী হয়েছে। মেয়ের মৃত্যুর জন্য ওই স্কুলশিক্ষিকাকেই দায়ী করেছেন মৃতার মা। এঘটনায় বহরমপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ পরিবারের লোকজন ওই ছাত্রীকে বাড়িতেই গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। তাড়াতাড়ি উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখা হবে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার স্কুলে ওই শিক্ষিকা তাঁদের মেয়েকে বেধড়ক মারধর করে। এরপর তাকে বেশ কিছুক্ষণ স্কুলে আটকেও রাখা হয়। মৃতার মা বলেন, মেয়েকে মারধর করে স্কুলে আটকে রাখা হয়েছিল। সবার শেষে ছাড়া হয়। মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরে। কেন মন খারাপ হয়েছে, জিজ্ঞাসা করায় আমাকে সব খুলে বলে। অপমান সহ্য করতে না পেরেই মেয়েটা গলায় ফাঁস দিয়ে জীবনটা শেষ করে দিল। ওই স্কুল থেকেই এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে মৃত ছাত্রীর দিদি। শুক্রবার যখন দিদি স্কুলে মাধ্যমিকের রেজাল্ট নিতে যায়, তখনই বাড়িতে বোন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়। স্কুলেই বোনের মৃত্যুর খবর শুনে তার দিদি বাড়ি ফিরে আসে। সেও ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। মৃতার দিদি বলে, ওই শিক্ষিকা কারও সঙ্গে ভাল ব্যবহার করেন না। সবাই তাঁর উপর অসন্তুষ্ট। শনিবার মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়।