


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: প্রতিবছর পুজোর সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে ভিড়ের বহর। ফলে নিরাপত্তাও বাড়াতে হচ্ছে পুলিশকে। জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বরকে নিরাপত্তার বজ্র আটুঁনিতে মুড়ে দিচ্ছে পুলিশ।
শনিবার চন্দননগরের স্ট্র্যান্ড রোডে জগদ্ধাত্রী পুজোর গাইড ম্যাপ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার অমিত পি জাভালগি, জেলাশাসক মুক্তা আর্য সহ বিশিষ্টরা ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, চন্দননগরের আবেগের পুজো এখন আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার গর্ব হয়ে উঠেছে। পুজোর জন্য মোতায়েন হচ্ছে বাড়তি পুলিশ বাহিনী। এছাড়া এই প্রথমবার বিরাট সংখ্যক সাদা পোশাকের মহিলা ও পুরুষ পুলিশ মোতায়েন করছে চন্দননগর কমিশনারেট। জলপথেও থাকছে কড়া নজরদারি। উৎসবের দিনগুলি শিশু ও মহিলাদের নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা এবং হেল্পডেক্স থাকছে। থাকবে যান চলাচলে বিধিনিষেধ। ইতিমধ্যেই পুজো কমিটিগুলি ও কেন্দ্রীয় কমিটিকে নিয়ে বৈঠক করেছেন পুলিসকর্তারা। তৈরি হয়েছে নিরাপত্তার নীল নকশা। তিনটি শহর, দু’টি থানার সঙ্গে সংলগ্ন রেল স্টেশনগুলিতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা হচ্ছে। আরপিএফ এবং জিআরপি’র কর্মী সংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে। হুগলির বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের পাশাপাশি গোটা বাংলার মানুষ মূলত রেলপথেই চন্দননগরে আসেন। তাই হুগলির ‘লাইফ লাইন’কে মুড়ে দেওয়া হচ্ছে বেনজির নিরাপত্তায়। চন্দননগরের পুলিস কমিশনার অমিত পি জাভালগি বলেন, পুজোর সময় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। গোপন বাহিনীও থাকবে। উৎসবের সময় বিশৃঙ্খলা রুখতে আমরা বদ্ধপরিকর। চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির তরফেও ভিড় নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী আনা হয়েছে। কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ সাউ বলেন, পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই আমরা কাজ করি। কমিটির তরফে এবং সমস্ত পুজো কমিটি স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা বাড়িয়েছে। পুজোর সংখ্যা ও ভিড় দু’টিই বাড়ছে। পুজোর সুনাম ও ঐতিহ্য রক্ষায় চেষ্টার ত্রুটি হবে না।
২০২৪ সালে অনুমোদিত পুজোর সংখ্যা ছিল ১৭৭। এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮০টি। যার মধ্যে ১৩৩টি চন্দননগরে ও ৩৬টি ভদ্রেশ্বর ও একটি চাঁপদানি পুরসভার মধ্যে পড়ছে। সবগুলিই কোনও না কোনও ক্লাব আয়োজিত। সঙ্গে চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বরে একাধিক পারিবারিক পুজোও হয়। সেগুলির আকর্ষণও কম নয়। এ সময় গোটা বাংলার ভিড় একত্র হয় জগদ্ধাত্রী উৎসবে। অনেক পুজো কমিটি জগদ্ধাত্রীকে মূলবান গয়নায় সুসজ্জিত করে। সেসবের নিরাপত্তার বিষয়টি নজরে রাখছে পুলিশ। এবার পুজোর ষষ্ঠী পড়েছে ২৭অক্টোবর। তার আগেই চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বরকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে দিতে চাইছে কমিশনারেট।