সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: উন্নয়ন আগে না নিরাপত্তা? এই প্রশ্নে নবদ্বীপের আমজনতা নিরাপত্তাকেই এগিয়ে রাখলেন। ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রতিটি বুথের বাসিন্দারা সাফ জানিয়ে দেন, রাস্তাঘাট, নিকাশি নালার সংস্কার ক’দিন পরে হলেও আপত্তি নেই। কিন্তু আগে চাই নিরাপত্তা। নজিরবিহীন এই প্রস্তাব মেনে সিসিক্যামেরা বসানো শুরু করেছে নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতি। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজকর্মের জন্য বুথপিছু ১০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। তা থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সিসিক্যামেরার জন্য টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগে স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ থেকে মঠ-মন্দিরের সাধু-সন্তরা। এব্যাপারে সকলেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ বলেন, সিসিক্যামেরা লাগানোর ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে। পুলিশ-প্রশাসনের তরফে অনুরোধ করা হয়েছিল, দোলের আগেই যেন সিসিক্যামেরাগুলি লাগানো হয়।
নবদ্বীপের স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েত এলাকায় ২৮টি বুথ রয়েছে। বুথ প্রতি ১০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দও হয়েছে। তবে, স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েতের ২২টি বুথের বাসিন্দার মতামতে উঠে এসেছে এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে সিসিক্যামেরা বসানোর কথা। ডাকঘর পাড়া, সুরভিকুঞ্জ, ভাগীরথী বিদ্যাপীঠ পাড়া, স্বরূপগঞ্জ পানশিলা বালিকা বিদ্যালয়, স্বরূপগঞ্জ গৌড়ীয় মঠ, চরস্বরূপগঞ্জ থেকে ফকিরতলা, তিওরখালি পর্যন্ত বসছে এই সিসিক্যামেরা।
স্বরূপগঞ্জ ভাগীরথী বিদ্যাপীঠ পাড়ার বাসিন্দা গৃহবধূ কনকলতা দেবনাথ বলেন, এলাকার নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরাই বুথ থেকে ক্যামেরা লাগানোর প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সেইমতো আমাদের ভাগীরথী বিদ্যাপীঠ পাড়া এলাকায় ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। স্থানীয় স্বরূপগঞ্জ সুরভিকুঞ্জ মঠের নরোত্তম দাস ব্রহ্মচারী বলেন, এই ডাকঘর পাড়া দিয়ে দিনরাত বিভিন্ন ধরনের মানুষ যাতায়াত করে। দোলের সময় বাইরে থেকে বহু ভক্ত আসেন। ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির মাধ্যমে মন্দিরের বাইরে চারটি সিসিক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ক্যামেরাগুলি আমাদের মন্দির থেকে মনিটরিং করা হবে।
স্বরূপগঞ্জ সরস্বতী গৌড়ীয় মঠের সেবক প্রদীপ পুরকাইত বলেন, আমাদের মন্দিরে নিজস্ব সিসিক্যামেরা আছে। তবে, গেটের বাইরে সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। তাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেকটাই জোরদার হবে। কারণ বিভিন্ন উৎসবে অসংখ্য অপরিচিত মানুষ মন্দিরে আসে।
তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি অমল সরকার বলেন, বর্তমান সময়ে বিজেপি এই রাজ্যে অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই পঞ্চায়েত এলাকায় একাধিক মঠ-মন্দির, মসজিদ আছে। এখানে বৈষম্যের রাজনীতি দূর করতে এবং এলাকায় অসামাজিক কাজকর্ম বন্ধ করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস অঞ্চল কমিটি থেকে বসে সকলের মতামত নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সুতপা রায়চৌধুরী বলেন, উৎসবের মরশুমে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এই ক্যামেরার মাধ্যমে সহজেই অপরাধীদের চিহ্নিত করা যাবে। দুষ্কৃতীরাও কোনো অসামাজিক কাজ করতে গেলে ভয় পাবে। নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তাপস ঘোষ বলেন, নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির তরফে জনগণের মতামত নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। সেইমতো স্বরূপগঞ্জের অধিকাংশ বুথে দোলের আগেই সিসিক্যামেরাগুলি লাগানো হচ্ছে। নবদ্বীপের স্বরূপগঞ্জে পাড়ায় সমাধান প্রকল্পে সিসিটিভি।-নিজস্ব চিত্র