Bartaman Logo
২৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তদন্তে ধরা পড়েনি বেনিয়ম, বাড়ি তৈরির দ্বিতীয় কিস্তিও মেলেনি! বিপাকে পশ্চিম বর্ধমানের ৭,৬০৮ পরিবার

পশ্চিম বর্ধমানের ৭,৬০৮ দরিদ্র পরিবার দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না পেয়ে বিপাকে। সরকারের প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে রক্ষা না হওয়ায় দিশাহারা। বিস্তারিত পড়ুন।

তদন্তে ধরা পড়েনি বেনিয়ম, বাড়ি তৈরির দ্বিতীয় কিস্তিও মেলেনি! বিপাকে পশ্চিম বর্ধমানের ৭,৬০৮ পরিবার
  • ২৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ভরা বর্ষা মরশুমে চরম বিপাকে পড়েছেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার হাজার হাজার দরিদ্র পরিবার। সরকার মাথার উপর পাকা ছাদ করে দেবে—এই স্বপ্নে কেউ কুঁড়ে ঘর ভেঙে দিয়েছিলেন। কেউ খুলে ফেলেছিলেন টালি বা টিনের ছাউনি। সবাইকে আশা জাগিয়ে চলতি বছরের শুরুতেই বাংলার বাড়ি প্রকল্পে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকাও ঢুকেছিল অ্যাকাউন্টে। ইট-সিমেন্টের গাঁথনিও শুরু হয়েছিল। ছাদ ঢালাইয়ের আগে ফুরিয়ে যায় অর্থ। প্রশাসন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নিয়ম মেনে ৬০ হাজার টাকা খরচ হলেই মিলবে দ্বিতীয় কিস্তি। তার আগেই ভোটে জিতে বিজেপি নতুন সরকার গঠন করে। অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে বাংলার বাড়ির ভবিষ্যৎ। মেলেনি দ্বিতীয় কিস্তির টাকা। ফলে, এখন খোলা আকাশের নীচে দিন যাপন করতে হচ্ছে এইসব উপভোক্তাদের। দুর্যোগ ঘনালেই দিশাহারা অবস্থা তাঁদের। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, সরকার বদলের পরই প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের নির্দেশে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের তদন্ত হয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। যাতে একজন অযোগ্য উপভোক্তাও সুবিধা না পান।  সূত্রের খবর, তদন্তে শেষে বড় কোন বেনিয়ম পাওয়া যায়নি। অণ্ডাল ব্লকের ৯১ জন, বারাবনি ব্লকের ১ হাজার ৮১৬ জন, দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের ১ হাজার ৩০৬, জামুড়িয়া ব্লকের ১ হাজার ৬৪০, কাঁকসা ব্লকের ৯২৭, পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের ১ হাজার ৯৭৩, রানিগঞ্জ ব্লকের ১৫৩ ও সালানপুর ব্লকের ৬২৯ জন প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছিলেন। তদন্ত করার পরও বড় কোনো কারচুপি বা বেনিয়ম পশ্চিম বর্ধমানে ধরা পড়েনি। তাই এইসব উপভোক্তাদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পাঠিয়েছিল জেলা প্রশাসন। সেই প্রস্তাব সরকার গঠনের তিন মাস পরও ঠান্ডাঘরে। এখন কবে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢুকবে, সেদিকেই তাকিয়ে জেলার ৭ হাজার ৬০৮ টি দরিদ্র পরিবার।
জামুড়িয়ার চিচুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রবণ ও দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন। স্ত্রী সন্ধ্যা বন্দোপাধ্যায়ও অসুস্থ। অতি দরিদ্র এই পরিবার পেয়েছিল সরকারি প্রকল্পের বাড়ি তৈরির প্রথম কিস্তির টাকা। সেই টাকা শেষ হয়ে গিয়েছে। নতুন বাড়ি তৈরি হয়নি। আবার পুরনো বাড়িও নেই। এখন ত্রিপল টাঙিয়ে দিনগুজরান করছেন বৃদ্ধ দম্পত্তি। তাঁদের আর্জি, দ্রুত দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করুক নতুন সরকার। 
পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সরকার একটি তদন্ত করেছিল। যাঁরা যোগ্য তাঁদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আগস্টেই পেয়ে যাবেন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ