


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: উচ্চমাধ্যমিকে পাশের হারে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান পেলেও মেধা তালিকায় প্রথম দশে হাওড়ার কোনো পড়ুয়ার নাম না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে জেলার শিক্ষামহলে। শিক্ষকদের একাংশের দাবি, সেমেস্টার পদ্ধতি, স্মার্টফোনের বাড়বাড়ন্ত এবং ইংরেজি মাধ্যমমুখী প্রবণতার জেরে ক্রমশ মেধা তালিকা থেকে পিছিয়ে পড়ছে জেলার পড়ুয়ারা।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল। জেলাভিত্তিক পাশের হারে পূর্ব মেদিনীপুরের পরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হাওড়া। জেলায় পাশের হার ৯৩.৮৪ শতাংশ। কিন্তু মেধাতালিকায় জেলার অনুপস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। শিবপুর শ্রীমৎ স্বামী প্রজ্ঞানানন্দ সরস্বতী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, মাধ্যমিকের পর হাওড়ার বহু মেধাবী পড়ুয়া কলকাতার বিভিন্ন নামী স্কুলে ভরতি হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি জেলার মিশ্র সংস্কৃতির কারণে অভিভাবকদের মধ্যে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে। তাঁর কথায়, ‘বাংলা মাধ্যমের পড়ুয়াদের মধ্যে কোথাও একটা হীনমন্যতা তৈরি হচ্ছে।’
সেমেস্টার পদ্ধতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকা। হাওড়া গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মৌ পাল বলেন, ‘প্রথম সেমিস্টারে অবজেক্টিভ প্রশ্ন বেশি থাকায় পড়ুয়ারা বিষয়ের গভীরে যেতে পারছে না। বাজার চলতি বই পড়ে তারা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে পরবর্তী সেমিস্টারে বড়ো প্রশ্নের উত্তর লিখতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছে।’ অল্প সময়ের মধ্যে দীর্ঘ প্রশ্নের প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মত তাঁর। একই সুর শোনা গিয়েছে শিবপুর ভবানী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শ্রাবণী পানের গলাতেও। তাঁর দাবি, পাশ-ফেল প্রথা তুলে দেওয়ায় পড়ুয়াদের পড়াশোনার প্রতি চাপ ও দায়বদ্ধতা কমেছে। পুরানো ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি। বেলুড় পঞ্চাননতলা মহেন্দ্র বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক সুবীর দীর্ঘাঙ্গীও শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
সামগ্রিক পাশের হার বাড়লেও মেধাতালিকায় হাওড়ার ক্রমাগত অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডিপিএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান কৃষ্ণ ঘোষ। তাঁর মতে, পড়াশোনায় স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার পড়ুয়াদের ক্ষতি করছে। যদিও জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (উচ্চ) বিমল গায়েন জানিয়েছেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। স্কুলে স্কুলে পরিদর্শন বাড়ানো হবে এবং শিক্ষাদান পদ্ধতিও খতিয়ে দেখা হবে।’