


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিয়ালদহ স্টেশনে প্রবেশ করলে এখন আর হকারদের হাঁক-ডাক নেই। অদূরে পড়ে রয়েছে ঠেলাগাড়ির ভগ্ন অংশ। হকাররা প্ল্যাটফর্মের ভিতরে জটলা করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আলোচনার মধ্যে উঠে আসছে একটাই প্রশ্ন, ‘এবার কী হবে?’ হকারদের অভিযোগ, গত শুক্রবার রাতের অন্ধকারে রেল কর্তৃপক্ষ তাঁদের সমস্ত দোকানপাট তুলে দিয়েছে। তাঁরা পরের দিন সকালে এসে দেখেন, আর কিছুই নেই। প্ল্যাটফর্মের বাইরে মেট্রো কিংবা অটো স্ট্যান্ড চত্বরে রবিবার দেখা গেল হকাররা বসেছেন। কিন্তু তাঁরাও দিন কাটাচ্ছেন এক বুক আশঙ্কা নিয়ে। এক বিক্রেতার কথায়, ‘আমরা কতদিন থাকব জানি না।’
শিয়ালদহ নর্থ হোক কিংবা সাউথ, সেফটিপিন থেকে পরোটা, খবরের কাগজ থেকে ঝালমুড়ি সবই পাওয়া যেত প্ল্যাটফর্ম চত্বরে। কিন্তু এখন চিত্রটা একেবারেই আলাদা। শুধুই রেল অনুমোদিত ঝাঁ চকচকে দোকান। শিয়ালদহ রেলওয়ে হকার্স বৃন্দর এক সদস্য বলছিলেন, ‘৫০০-র বেশি হকার এখানে বসতেন। তাঁদের উপার্জনে ১০ হাজার মানুষের পেট চলে। আমরা এখন কী করব? রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, উপরতলা থেকে নির্দেশ এসেছে। আমরা বলেছি, রেল কর্তৃপক্ষ ফি নিয়েও যদি একটা জায়গা দেয়, তাহলেও আমরা রাজি। কিন্তু কোনো সময় না দিয়ে এভাবে তুলে দিল! আমরা এখানে বংশ পরম্পরায় প্রায় ৫০ বছর ধরে ব্যবসা করছি।’ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ট্রেনের নিত্যযাত্রীদেরও। এক নিত্যযাত্রীর কথায়, আমরা তো এখান থেকে কম দামে মুড়ি কিংবা পরোটা খেতে পারতাম। কিন্তু এখন তো ওইসব দোকান থেকে ৫০-৬০ টাকা খরচ করেও পেট ভরা খাবার পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি কোপ পড়েছে খবরের কাগজেও। এক নিত্যযাত্রীর কথায়, ‘স্টেশন চত্বর মানেই তো খবরের কাগজ-ম্যাগাজিনের দোকান। এখন তো সেগুলিও নেই।’ শিয়ালদহ থেকে হাওড়া স্টেশন, সর্বত্র হকারদের অভিযোগ, কোনো সময় না দিয়েই অভিযান হয়েছে। কেউ না শুনলে, প্রতিবাদই একমাত্র পথ। শিয়ালদহের প্ল্যাটফর্মে উধাও দোকান।-নিজস্ব চিত্র