বম্বে টকিজের হর্তাকর্তা হিমাংশু রায় একবার শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখলেন, ‘যদি ইচ্ছা করেন, তবে বম্বে টকিজে গল্পলেখক রূপে যোগদান করতে পারেন। আপনার মতামত শীঘ্র জানান।’ ১৯৩৮ সাল নাগাদ মাসিক দেড়শো টাকা মতো আয় করতেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। সমসাময়িক অনেক লেখকের থেকে বেশি। কিন্তু পরিবারের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। তাই অন্য কোনও উপায়ে টাকার উপার্জন করতে হবে। সেজন্য বম্বে টকিজে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব ফেলতে পারলেন না তিনি। ওই বছরই সস্ত্রীক বম্বে যাত্রা। কলেজে পড়ার সময় থেকেই সিনেমা দেখার অভ্যাস ছিল তাঁর। দেখতে লাগলেন হলিউড সিনেমা। দেশীয় সিনেমা কোনওদিনই তাঁকে টানত না। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন, ‘এইবার সুযোগ পাইয়াছি। সিনেমা শিল্পকে উন্নত করিব, সাহিত্যের পর্যায়ে টানিয়া তুলিব। ইহা শুধু আমার জীবিকা হইবে না, আমার জীবনের পরম সাধনা হইবে।’ বম্বে টকিজে যোগ দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন শরদিন্দু। তবে সেই ‘উচ্ছ্বাস’ দীর্ঘস্থায়ী হল না। বম্বে টকিজের জন্য সাতটি ছবির জন্য গল্প লিখেছিলেন তিনি। ‘ভাবী’, ‘বচন’, ‘দুর্গা’, ‘কঙ্গন’, ‘নবজীবন’, ‘আজাদ’ ও ‘পুনর্মিলন’। শরদিন্দু লিখতেন ইংরেজিতে। সেগুলি হিন্দিতে অনুবাদ করা হতো। তবে একটি বিষয় লক্ষ্য করেছিলেন তিনি। বাণিজ্যের প্রয়োজনে বদলে ফেলা হতো তাঁর লেখাগুলি। নিজের মতো করে গল্প লিখতে পারতেন না। তাঁর মনে হল, ‘দেবতা ভাবিয়া অপদেবতার পূজা করিয়াছি...’। আঘাত পেলেও কিছু বলতে পারতেন না। পরে অবশ্য চিত্রনাট্যকারের কাজ ছেড়ে পুরোপুরি সাহিত্যে মনোনিবেশ করেছিলেন। একসময় তিনি লিখেছিলেন, ‘সিনেমা শিল্পের বিরুদ্ধে আমার কোনও নালিশ নাই। নালিশ তাহাদের বিরুদ্ধে যাহারা এই শিল্পকে নিছক অর্থোপার্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ে পরিণত করিয়াছে। পরিতাপ এই যে ইহারা ভাল ব্যবসায়ীও নয়।’



