নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর আগের শেষ রবিবার। সবে দুপুর গড়িয়েছে। উৎসবমুখর মানুষের আনাগোনায় ঝলমল করছে হাতিবাগান। হইহই করতে করতে বিধান সরণির একপাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে একদল কলেজ পড়ুয়া। অনিকেত, সঞ্চারী, শুভ্রা, সংকেতসহ আরও কয়েকজন। কেউ বঙ্গবাসী, কেউ জয়পুরিয়া কলেজের। কথায় কথায় জানালেন, শেষবেলার শপিংয়ের ‘টাচ-আপ’ চলছে। হাতে আর সময় নেই। উৎসবের সাজে সেজে বেরিয়ে পড়তে হবে প্যান্ডেল হপিংয়ে। তাই দল বেঁধে তাঁরা চলে এসেছেন বকেয়া কেনাকাটা সেরে ফেলতে। সঞ্চারী-শুভ্রারা কিনবেন কিছু জুয়েলারি, সাজগোজের সামগ্রী। অনিকেতরা যাবেন শপিং মলে।
উত্তর কলকাতার হাতিবাগানের থেকে দক্ষিণের গড়িয়াহাট—ছবিটা খুব একটা আলাদা নয়। এখানেও শেষবেলার কেনাকাটা সারতে বহু মানুষকে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেল সকাল থেকেই। মধ্য কলকাতার নিউ মার্কেট, ধর্মতলা চত্বরে ছিল থিকথিকে ভিড়। সব মিলিয়ে একটা জিনিস স্পষ্ট, স্লগ ওভারেই বাজিমাত পুজোর বাজারে! সব জায়গাতেই ভিড় সামলাতে বিস্তর কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে পুলিশকে। ধর্মতলায় যেমন গ্র্যান্ড হোটেলের সামনে বড়ো রাস্তার একাংশ ব্যারিকেড দিয়ে আলাদা করে ভিড় সামলাতে দেখা গেল উর্দিধারীদের।
বেছে বেছে একটা ভালো পারফিউম। জামার সঙ্গে মানানসই জাঙ্ক জুয়েলারি। আর ঠাকুর দেখতে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটি হল জুতো। ভালো দোকান থেকে স্টাইল ও আরাম দু’টোই যেন থাকে, এমন জুতো কিনতে হবে। দমদমের সঞ্চারী তাঁর নতুন শাড়ির সঙ্গে মানানসই জুয়েলারি খুঁজতে এসেছেন হাতিবাগানে। তাঁর বন্ধু সঙ্গীতার মনে হয়েছে, নবমীর পার্টিতে ড্রেসের সঙ্গে মানানসই একটা ক্লাচ চাই তাঁর। তাই দল বেঁধে হাতিবাগান অভিযান তাঁদের।
পুজোর বাজারে এখন বাস্তবিকই ‘স্লগ ওভার’ চলছে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই ‘ঝোড়ো ইনিংস’ খেলতে তৎপর! হাতিবাগানের রেডিমেড জামাকাপড়ের ব্যবসায়ী রঞ্জন রায় বলছিলেন, ‘এখন বেশিরভাগ লোক আগে কেনা জামার সাইজ বদলাতে আসছেন। রবিবার এমনিতে ভিড় বেশি থাকে। আজ তো পুজোর আগের শেষ রবিবার। ফলে ভিড় আছে যথেষ্ট। তবে এটা ঠিক, এবার শেষের দিকেই বাজার উঠেছে। কিন্তু তুলনামূলক কম দামের জিনিস বেশি বিক্রি হচ্ছে। অনলাইনে কেনাকাটা সেরে নিয়েছেন অনেকে। তার একটা প্রভাব তো পড়ছেই।’
গড়িয়াহাটের রাস্তায় যেন মেলা বসেছে! বিক্রিবাটা বাড়ায় হাসি ফুটেছে ফুচকাওয়ালা, খেলনাওয়ালাদের মুখেও। অনেকেই আসছেন কানের দুল, গলার হার বা আপাতভাবে সামান্য কোনো জিনিস কিনতে। হয়তো না কিনলেও হত, কিন্তু পছন্দ হয়েছে যে! গড়িয়াহাট থেকে চেতলা, নিউ মার্কেট, শোভাবাজার, হাতিবাগান, খান্না—সর্বত্র কেনাকাটার ধুম। হাতিবাগান, শোভাবাজার, শ্যামবাজার কিংবা গড়িয়াহাটে ভিড়ের চাপে সময় থমকে যাচ্ছে লাল সিগন্যালে। তীব্র যানজটে অস্বস্তি বাড়ছে। তার মধ্যেই ধেয়ে চলেছে উৎসবমুখর জনস্রোত।



