সিওল, ২৭ অক্টোবর: একসময় সিনেমার পর্দায় দেখা যেত, পৃথিবীর কক্ষপথে ভেসে বেড়ানো পরিত্যক্ত উপগ্রহ, রকেটের ভাঙা অংশ আর ধাতব টুকরো সংগ্রহ করছে বিশেষ মহাকাশযান। এবার এটি বাস্তব রূপ পেতে চলেছে খুব তাড়াতাড়ি। আর নেপথ্যে রয়েছে এশিয়া মহাদেশের এক উন্নত দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কল্পবিজ্ঞান ছবি ‘স্পেস সুইপার্স’-এও উঠে এসেছিল এমনই এক ভবিষ্যতের ছবি। এবার সেই কল্পনাকেই বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে যেতে চলেছে দেশটি। পৃথিবীর চারপাশে ক্রমশ বেড়ে চলা মহাকাশ-বর্জ্য পরিষ্কারের লক্ষ্যে বিশেষ উপগ্রহ তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার মহাকাশ সংস্থা।
দক্ষিণ কোরিয়ার মহাকাশ সংস্থা কোরিয়া অ্যারোস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, মহাকাশে পরিত্যক্ত উপগ্রহ ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের জন্য তৈরি হতে চলেছে অ্যাকটিভ ডেব্রিস রিমুভাল স্যাটেলাইট যার পোশাকি নাম এডিআর-স্যাট। মঙ্গলবার ডেজিয়নের কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির স্যাটেলাইট টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টারে উপগ্রহটির খুঁটিনাটি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে আগামী মাস থেকেই স্যাটেলাইটটি মহাকাশে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত মডেলটির চূড়ান্ত সংযোজনের কাজ শুরু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি 'নুরি রকেটে' এর ষষ্ঠ উৎক্ষেপণের সঙ্গেই মহাকাশে পাঠানো হবে এই এডিআর-স্যাটকে।
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল, কক্ষপথে থাকা একটি পরিত্যক্ত উপগ্রহকে শনাক্ত করে তার কাছে পৌঁছনো, সেটিকে সেখান থেকে সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা। প্রথমে মাহাকাশে পৌঁছনোর পর এডিআর-স্যাট লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান ও গতিপথ নির্ণয় করে ধীরে ধীরে তার কাছাকাছি পৌঁছবে। তারপর বিশেষ গ্রিপিং ব্যবস্থার সাহায্যে লক্ষ্য উপগ্রহটিকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করবে এই উপগ্রহ।
উল্লেখ্য, পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে এখন ক্রমেই বাড়ছে কৃত্রিম উপগ্রহের সংখ্যা। যোগাযোগ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ এবং সামরিক নজরদারির মতো কাজে একের পর এক উপগ্রহ পাঠাচ্ছে বিভিন্ন দেশ ও বেসরকারি সংস্থা। এর পাশাপাশি কক্ষপথে জমছে মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া উপগ্রহ, ব্যবহৃত রকেটের অংশ এবং সংঘর্ষে তৈরি হওয়া অসংখ্য ধাতব টুকরোর সংখ্যাও। এই মহাকাশের বর্জ্য গুলি শুধু মহাকাশযানের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে না, বরং সক্রিয় উপগ্রহ এবং মহাকাশচারীদের জন্যও বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। কয়েক কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড বেগে ছুটে চলা ছোট্ট একটি ধাতব টুকরোও আঘাত হানতে পারে গুরুত্বপূর্ণ উপগ্রহ এবং মহাকাশযানে। ফলে ভবিষ্যতে মহাকাশ অভিযান নিরাপদ রাখতে বর্জ্য অপসারণের প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়কেই মাথায় রেখে এমন উদ্যোগ নিতে চলেছে দক্ষিণ কোরিয়া।



