নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রোগী হাসপাতালেই ভর্তি নেই। অথচ স্বাস্থ্যসাথীতে তাঁর নামে চড়চড় করে বিল উঠছে। ডাক্তার অপারেশনই করেননি। তিনি ছিলেনই না হাসপাতালে। অথচ হাসপাতাল দাবি করছে, কই, পেশেন্টের তো অপারেশন হয়ে গিয়েছে! সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের দাবি, স্বাস্থ্যসাথীর ‘কেস’ তিনি করছেন না। অথচ সিসিটিভিতে দেখা গিয়েছে, ওই ডাক্তার রোগী দেখছেন এবং অপারেশন থিয়েটারেও ঢুকছেন। অনেক সময়ই এসব ধাঁধার উত্তর মেলে না। কিন্তু স্বাস্থ্যসাথীর লক্ষ লক্ষ টাকা বিল চড়তেই থাকে। তদন্ত করে যতদিনে এইসব করিৎকম্মা প্রাইভেট হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ততদিনে যা ক্ষতি হওয়ার হয়েই যায়। এসব ভেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট স্বাস্থ্যসাথীতে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর আনল ‘জিও ট্যাগিং’ ব্যবস্থা। শুরুতে এই পরিকল্পনা পাইলট প্রজেক্ট আকারে ছিল। স্বাস্থ্যদপ্তর এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, রাজ্যজুড়ে স্বাস্থ্যসাথীতে যুক্ত সমস্ত প্রাইভেট হাসপাতালে চালু করতেই হবে ‘জিও ট্যাগিং’।
Advertisement
কথা হল, ‘জিও ট্যাগিং’ ব্যাপারটা কী? আসলে এতে অ্যাপের মাধ্যমে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর ছবি তুলে পাঠাতে হবে। কখন কখন? অপারেশনের আগে, পরে ও ছুটির সময়। আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্স ব্যবহার করে চলবে গোটা সিস্টেম। দ্বিতীয়ত, রোগীর নাম, হাসপাতালে নাম ও হাসপাতালে থাকার দিনক্ষণের পাশাপাশি ঠিক কোন জায়গা বা লোকেশনের ছবি তোলা হয়েছে, সেসব তথ্যও থাকবে। তৃতীয়ত, হাসপাতাল যেকোনও ধরনের অ্যান্ড্রয়েড নির্ভর মোবাইল ব্যবহার করতেই পারে। তবে অ্যাপ চলবে শুধুমাত্র হাসপাতালের ৫০ মিটারের মধ্যে। রোগীর ছবি, তথ্য, লোকেশন এবং যা যা তথ্য হাসপাতাল দিচ্ছে, সেগুলি যথাযথ কি না, তা যাচাই করবে এআই। তথ্যগুলি অসত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও পদাধিকারীর বিরুদ্ধে আইনানুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিমার ক্লেম নিষ্পত্তির সময় টিপিএ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্সিকে দেখে নিতে হবে রিয়েল টাইম ছবি এবং তথ্যাদি দেওয়া হয়েছে কি না।
এখানেই শেষ নয়, জিও ট্যাগিং ছাড়াও কোনও প্রাইভেট হাসপাতালে রোগীর অপারেশন হল কি না জানতে অপারেশন বা প্রসিডিওর (উদাহরণস্বরূপ বিভিন্ন ধরনের সার্জারি, ডায়ালিসিস, কেমোথেরাপি ইত্যাদি) কখন শুরু এবং শেষ হল, তা জানাতে হবে। সেই তথ্য আপলোড করতে হবে সমস্ত প্রাইভেট হাসপাতালকেই। একবার আপলোড হয়ে গেলে আর এডিটও করা যাবে না। ক্লেম যাচাই করার সময় টিপিএদেরও বলা হয়েছে, অপারেশন বা প্রসিডিওরের শুরু এবং শেষের সময় দেখে নিতে। এই তথ্যগুলিও এআই মাধ্যমে যাচাই করে দেখবে স্বাস্থ্যসাথী শাখা। এছাড়া রাজ্যের সমস্ত প্রাইভেট হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে চিকিৎসা বা অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত ডাক্তারদের সম্পর্কিত তথ্যও হাসপাতালকে জানাতে হবে। ডাক্তাররা সেখানে কাজ করলে, সে-কথা মুচলেকা আকারে জমা দিতে হবে হাসপাতালে।
এখানেই শেষ নয়, জিও ট্যাগিং ছাড়াও কোনও প্রাইভেট হাসপাতালে রোগীর অপারেশন হল কি না জানতে অপারেশন বা প্রসিডিওর (উদাহরণস্বরূপ বিভিন্ন ধরনের সার্জারি, ডায়ালিসিস, কেমোথেরাপি ইত্যাদি) কখন শুরু এবং শেষ হল, তা জানাতে হবে। সেই তথ্য আপলোড করতে হবে সমস্ত প্রাইভেট হাসপাতালকেই। একবার আপলোড হয়ে গেলে আর এডিটও করা যাবে না। ক্লেম যাচাই করার সময় টিপিএদেরও বলা হয়েছে, অপারেশন বা প্রসিডিওরের শুরু এবং শেষের সময় দেখে নিতে। এই তথ্যগুলিও এআই মাধ্যমে যাচাই করে দেখবে স্বাস্থ্যসাথী শাখা। এছাড়া রাজ্যের সমস্ত প্রাইভেট হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে চিকিৎসা বা অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত ডাক্তারদের সম্পর্কিত তথ্যও হাসপাতালকে জানাতে হবে। ডাক্তাররা সেখানে কাজ করলে, সে-কথা মুচলেকা আকারে জমা দিতে হবে হাসপাতালে।



