Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

স্বামীজির দেওয়া নাম

ভারতীয় মেয়েরা কতটা পিছিয়ে রয়েছে, তা আমেরিকায় গিয়ে স্বামীজি অনুধাবন করেছিলেন। তখন থেকেই তাঁর ধ্যানজ্ঞান ছিল, ভারতীয় মেয়েদের উন্নতিসাধন। আমেরিকার নারীদের সম্পর্কে তিনি ১৮৯৪ সালের ১৯ মার্চ গুরুভ্রাতা স্বামী রামকৃষ্ণানন্দকে লিখেছিলেন, ‘এদেশের মেয়ের মতো মেয়ে জগতে নাই।

স্বামীজির দেওয়া নাম
  • ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
ভারতীয় মেয়েরা কতটা পিছিয়ে রয়েছে, তা আমেরিকায় গিয়ে স্বামীজি অনুধাবন করেছিলেন। তখন থেকেই তাঁর ধ্যানজ্ঞান ছিল, ভারতীয়  মেয়েদের উন্নতিসাধন। আমেরিকার নারীদের সম্পর্কে তিনি ১৮৯৪ সালের ১৯ মার্চ গুরুভ্রাতা স্বামী রামকৃষ্ণানন্দকে লিখেছিলেন, ‘এদেশের মেয়ের মতো মেয়ে জগতে নাই। কি পবিত্র, স্বাধীন, স্বাপেক্ষ আর দয়াবতী। ... যেখানে স্ত্রীলোকেরা পূজিতা হন, দেবতারা তথায় আনন্দ করেন।’ তার ছয় মাস পরে আর একটি চিঠিতে তিনি লিখলেন, ‘এরা রূপে লক্ষ্মী, গুণে সরস্বতী। আমি এদের পুষ্যিপুত্তুর, এরা সাক্ষাৎ জগদম্বা। ...এইরকম মা জগদম্বা যদি ১০০০ আমাদের দেশে তৈরি করতে পারি, তবে নিশ্চিত হয়ে মরব।’ স্বামীজি কী অসীম শ্রদ্ধাশীল ছিলেন তাঁদের প্রতি। আমেরিকায় পরিচিত বিভিন্ন মহিলাকে তিনি নানা নামে ডাকতেন। সেই ডাকের মধ্যে মিশেছিল অসীম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। আমেরিকায় তিনি যে তিনজনকে  দীক্ষা দিয়েছিলেন, তার মধ্যে একজন ছিলেন মহিলা। নাম মাদাম মেরি লুই। দীক্ষান্তে তাঁর নাম হয় অভয়ানন্দ। আর এক নারী মিস ম্যাকলাউড স্বামীজিকে ঈশ্বরতুল্য মনে করতেন। স্বামীজি তাঁকে ডাকতেন ‘জো’ বলে। কেম্ব্রিজ শহরের মিসেস ওলি বুলের তিনি নামকরণ করেছিলেন ‘ধীরামাতা’। লস এঞ্জেলসের কাছে প্যাসাডোনায় দুই বোন মিসেস ক্যা঩রি ওয়াইকফ এবং মিসেস এলিস হ্যান্সবরোর নামকরণ করেছিলেন যথাক্রমে ‘ভগিনী ললিতা’ এবং ‘ভগিনী শান্তি’। সানফ্রান্সিসকো শহরে স্বামীজি মিসেস এডিথ অ্যালানের সংস্পর্শে আসেন। স্বামীজি তাঁর নামকরণ করেন ‘বিরজা দেবী’। মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেলের সঙ্গে স্বামীজির সাক্ষাৎ হয় লন্ডনে ১৮৯৫ সালে। মার্গারেট ১৮৯৮ সালে ভারতে চলে অসেন মানুষের সেবা করার জন্য। ওই বছরের ২৫ মার্চ বিবেকানন্দ তাঁকে ব্রহ্মচর্য ব্রতে দীক্ষা দেন। তখনই তাঁর নামকরণ করেন ‘ভগিনী নিবেদিতা’।  পাশ্চাত্যের মহিলাদের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দ জগজ্জননীর রূপ প্রত্যক্ষ করেছিলেন। পরবর্তী কালে এঁদের মধ্যে প্রায় সকলেই স্বামীজির স্বপ্ন ও বাণীকে আদর্শ করে মানুষের জন্য নীরবে কাজ করে গিয়েছেন। তাঁদের মধ্য দিয়ে স্বামী বিবেকানন্দ ভারতীয় নারীদের উন্নতির স্বপ্ন দেখতেন।
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ