Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

বাংলার শয়াল উৎসব

বাংলার শয়াল উৎসব
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ফাল্গুন, চৈত্র থেকে বৈশাখ- জ্যৈষ্ঠ। বিশ্ব উষ্ণায়নের কৃপায় আজকাল বসন্ত ও গ্রীষ্মকে আলাদা করা মুশকিল। তবুও চারদিকে পলাশ, শিমুল ফুটে উঠলেই নানারকম উৎসব-পার্বণে মেতে ওঠে গ্রামবাংলা। এই রীতি বহু প্রাচীন। কয়েকশো বছর ধরেই বাংলার নদীমাতৃক ও কৃষিভিত্তিক সমাজ জীবনে বিভিন্ন দেবদেবীর পূজার্চনার চল রয়েছে। মূলত রোগের প্রকোপ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে ও সুখ-শান্তির কামনায় দীর্ঘদিন ধরে শীতলা, মনসা, চণ্ডী, দক্ষিণরায় সহ নানা দেবদেবীর পুজো হয়ে আসছে। এক্ষেত্রে সাধারণত চড়ক উৎসব, গাজন, অন্নপূর্ণা পুজো বা বাসন্তী পুজোর কথা শোনা যায়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায়, বলা ভালো প্রত্যন্ত গ্রামে এমন অনেক উৎসব বা পুজো হয়, যা অধিকাংশের কাছেই অজানা। এমনই এক উৎসব হল শয়াল। দক্ষিণবঙ্গে বিশেষ করে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে সর্বাধিক জনপ্রিয় এই শয়াল। এছাড়া দুই চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া জেলার নানা গ্রামেও আয়োজিত হয় এই বিশেষ উৎসব। বাংলার লৌকিক জীবনের সঙ্গে মঙ্গলকাব্যের যোগ বহু পুরনো। শয়ালও তার ব্যতিক্রম নয়। শয়াল উদযাপনের অঙ্গ হিসেবে শুরুর দিকে মূলত কয়েকজন মিলে পাঁচালি গেয়ে বেড়াতেন। পরের দিকে গ্রামের চণ্ডীমণ্ডপে বা জমিদার বাড়িতে আরও একটু বড় করে পালাগানের আয়োজন করা হয়। কোথাও একদিন, কোথাও পাঁচ বা সাতদিন ধরে চলত অনুষ্ঠান। একইসঙ্গে গ্রামের মন্দিরে, দেব-দেবীর থানে মুড়ি, মুড়কি, নাড়ু, পাঁচ কলাইয়ের ভাজা, ফল, ফুল, মিষ্টি দিয়ে সাড়ম্বরে পুজোর আয়োজন করা হতো। এক্ষেত্রে অম্লশূলের হাত থেকে রেহাই পেতে শিবের পুজো, কলেরা, বসন্ত থেকে বাঁচতে শীতলা পুজো, সর্পদংশন থেকে রক্ষা পেতে মনসা পুজোর চল রয়েছে। এই সময় গ্রামে নিয়ম মেনে ধান সেদ্ধ, কাপড় সেদ্ধ, লাঙল ধরা এসব বন্ধ রাখা হয়। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিবর্তিত হয়েছে শয়াল উদযাপনের ধরনও। এখন গ্রামে বড় বড় যাত্রাপালা ও মেলার আয়োজন করা হয়। তবে থেকে গিয়েছে সেই সহজ-সরল জীবনযাপন ও আনন্দ উদযাপনের আমেজ।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ