বাঙালির গায়ে আড্ডা শব্দটা জুড়ে গিয়েছে সেই কোন কালে। কবি-সাহিত্যিকরাও এই আড্ডার মোহ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। তাঁদের আড্ডায় যে কেবল গুরুগম্ভীর আলোচনা হতো, এমনটা নয়। বরং মাঝেমধ্যে এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি হয়েছে, যা কালজয়ী রসিকতার জন্ম দিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ-শরৎচন্দ্রের কথাই ধরুন না! গুরুদেবের একটি অভ্যাস ছিল। কোনও নাটক বা উপন্যাস লিখলে, তা প্রকাশের আগে সেটি তিনি গুণী মানুষের সামনে পড়ে শোনাতেন। আসলে সকলের মতামত নেওয়া আর কি! আর গুরুদেবের মুখে সেই অমৃত ভাষণ শুনতে উন্মুখ থাকতেন সাহিত্যিককুল। কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রায়ই এরকম পাঠের আসরে হাজির হতেন। বাইরে জুতো রেখেই। একবার সেই আসরের বাইরে থেকে তাঁর জুতোজোড়া চুরি হয়ে যায়। স্বভাবকৃপণ শরৎচন্দ্র পণ করলেন, আর ভুল করবেন না। ন্যাড়া একবারই বেলতলায় যায়। কিন্তু সামান্য চটিজোড়ার জন্য গুরুদেবের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হবেন? তাই সায় দেয়নি মন। অগত্যা কিছুটা নিমরাজি হয়ে পরবর্তী কোনও সাহিত্য পাঠের আসরে হাজির হন। কিন্তু জুতোজোড়া খুলতে গিয়েই তাঁর পুরনো স্মৃতি ফিরে আসে। কী করবেন? জুতোজোড়া কাগজে মুড়ে সাহিত্য পাঠের আসরে প্রবেশ করেন। কিন্তু যেখানে ভূতের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যা হয়। এই জুতো কাগজে মোড়ার দৃশ্যটি কোনওভাবে দেখে ফেলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি কিন্তু শরৎকে অপ্রস্তুত করতে চাননি। কেবল স্মিত হেসে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘শরৎ, তোমার বগলে ওটা কী পাদুকা-পুরাণ?’ ঘটনার পর প্রায় এক শতক অতিক্রান্ত। পাদুকা-পুরাণের কথা এখনও ফেরে মানুষের মুখে মুখে।



