


সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাট লাগোয়া জঙ্গলে বসন্ত উৎসব আয়োজনে নিষেধাজ্ঞার কথা সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় অনেক পর্যটকই আর আসেননি। পরে অবশ্য বনমন্ত্রী আবির খেলায় নিষেধাজ্ঞা না থাকার কথা বলেন। এদিন পর্যটকদের ভিড় কম হওয়ায় সোনাঝুরি খোয়াইয়ের হাটে সুষ্ঠুভাবেই দোলপূর্ণিমা উদযাপিত হল। জেলা পুলিস জোরদার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল। মূলত স্থানীয় বাসিন্দা ও কিছু পর্যটক দিনভর আবির খেলায় মেতে উঠলেও সোনাঝুরি হাট সহ বোলপুর-শান্তিনিকেতনের কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এতে স্বস্তিতে পুলিস ও প্রশাসন।
শান্তিনিকেতন থানার এক আধিকারিক বলেন, সংগঠিতভাবে জায়গায় জায়গায় ব্যারিকেড করায় এবার যানজটের ভোগান্তি এড়ানো গিয়েছে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
দোলপূর্ণিমায় এবারও বসন্ত উৎসব না করার কথা জানিয়েছিল বিশ্বভারতী। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১১ মার্চ শান্তিনিকেতনের গৌরপ্রাঙ্গণে ঘরোয়াভাবে তাদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব আয়োজন করেছিল। বিশ্বভারতী যখন থেকে ঘরোয়াভাবে বসন্ত উৎসব আয়োজন করছে, তখন থেকে সোনাঝুরি খোয়াইয়ের হাট লাগোয়া জঙ্গলেই বড় করে বসন্ত উৎসব হচ্ছে। তাই এবারও সোনাঝুরি হাট চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কিন্তু এবার জঙ্গলের মধ্যে রং খেলা, গাড়ি পার্কিং, ভিডিওগ্রাফি ও ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ করার ব্যানার লাগানো হয়েছিল। বনদপ্তরের নিষেধাজ্ঞার কথা সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। এনিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়। বনদপ্তর দাবি করে, ওই ব্যানার তারা লাগায়নি। এরপর রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা সাংবাদিকদের বলেন, আবির ও রংখেলায় কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। শুধু সবুজ প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রং খেলার অনুরোধ করা হচ্ছে। বিজেপি বিষয়টিতে রাজনৈতিক রং লাগানোর অপচেষ্টা করছে।
বনমন্ত্রী একথা জানালেও তার আগেই ব্যানারের বিষয়টি জানতে পেরে অনেক পর্যটক বোলপুরে হোটেল বুকিং বাতিল করে দেন। ফলে এবার অন্য বছরের তুলনায় খোয়াইয়ের হাট ও শালবনে পর্যটকদের ভিড় কম হয়েছে। তবে সেখানে স্থানীয়দের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিবেশপ্রেমীরা জানান, ভিড় কম হওয়ায় উচ্ছৃঙ্খলতা ও তাণ্ডব দেখা যায়নি। পুলিসের পক্ষেও যান নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হয়েছে।