


নিজস্ব প্রতিনিধি, আমেদাবাদ: ক্রিকেট কেরিয়ারই থমকে দিয়েছিল অজানা অন্ধকারে। কে জানত, বাঁকের পরই নতুন জীবন পাবেন সঞ্জু স্যামসন। যে আসরের শুরুতে তাঁর ঠিকানা ছিল ডাগ আউট, সেখানেই আসবে প্রতিযোগিতায় সেরার রাজমুকুট। পাঁচ ম্যাচে ৮০.২৫ গড়ে ৩২১ রান, টিম ইন্ডিয়ার সর্বাধিক রানসংগ্রহকারী তিনিই। স্রেফ রানই করেননি, নক-আউটের কঠিনতম হার্ডলসগুলি তিনিই পার করিয়েছেন দলকে!
সঞ্জুর গলায় স্বাভাবিকভাবেই তৃপ্তি। নীল জার্সিতে তাঁর কেরিয়ার কখনও এমন স্বপ্নের সফর দেখেনি। বলেই ফেললেন, ‘বিশ্বাসই হচ্ছে না। শব্দ হাতড়াচ্ছি। আবেগ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। কিন্তু পারছি কই? দু’বছর আগে বিশ্বকাপ জয়ের দলে ছিলাম। কিন্তু খেলিনি। ভাবতাম, আমি খেললে কী করতাম। ভগবানের নিশ্চয় অন্য প্ল্যান ছিল।’ শচীন তেন্ডুলকরের কাছেও তিনি কৃতজ্ঞ। শোনালেন সেই কাহিনি, ‘শচীন স্যারের সঙ্গে গত কয়েক মাস ধরে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি। দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলেছি। ওঁর থেকে গাইডেন্স পাওয়ার থেকে ভালো কিছু তো হয় না। শনিবারও উনি ফোন করেছিলেন। মূল্যবান পরামর্শ দেন। আমি ধন্য।’
ম্যাচের সেরা যশপ্রীত বুমরাহ আবার তিন বছর আগের ওডিআই বিশ্বকাপে স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণায় মলম দিতে পেরে আপ্লুত। বললেন, ‘স্পেশাল মুহূর্ত। আগেরবার ঘরের মাঠে জিততে পারিনি। এবার জিতলাম। মোতেরায় খেলার অভিজ্ঞতা উজাড় করে দিয়েছিলাম। কখনও প্যানিক করিনি।’ অভিষেক শর্মার গলায় টিম ম্যানেজমেন্টের প্রশংসা। বাঁ-হাতি ওপেনারের উপলব্ধি, ‘কোচ-ক্যাপ্টেন আস্থা রেখেছিল। তবে আমার নিজেরই সংশয় হচ্ছিল। রান পাব তো? কিন্তু ওরা পাশে ছিল। কখনও চাপে পড়তে দেয়নি। আমার কাছে ব্যর্থতা হজম করাটা সহজ ছিল না। সারা বছর ভালো খেলেও বড় আসরে প্রত্যাশাপূরণ করতে পারছিলাম না। ভালো খেলতে চেয়েছিলাম তীব্রভাবে। কিন্তু রান আসছিল না। কোচ-ক্যাপ্টেন বলেছিল, চিন্তার কিছু নেই। তুমি আসল ম্যাচে জেতাবে। দলের প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরে আমি খুশি।’