নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বর্ষার মরশুমে টানা তিন মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলতে চলেছে বীরভূমের বালিঘাটগুলি। আগামী ১ নভেম্বর থেকেই জেলার বৈধ বালিঘাটগুলি থেকে ফের বালি উত্তোলন শুরু হবে। সম্প্রতি এই বিষয়ে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন জেলাশাসক ধবল জৈন। প্রশাসনের দাবি, ঘাটগুলি ফের চালু হলে জেলায় বালির আকাল মিটবে। সাধারণ মানুষ অনেক সস্তায় বালি পাবে। ফলে এতদিন ধরে থমকে থাকা সরকারি ও বেসরকারি নির্মাণকাজগুলি এবার পুরোদমে শুরু করা সম্ভব হবে।
তবে প্রশাসনের এই স্বস্তির খবরের মাঝেই ঘনিয়েছে প্রবল আশঙ্কার মেঘ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বৈধ ঘাটগুলি চালু হওয়ার সুযোগ নিয়ে জেলায় ফের রমরমিয়ে শুরু হবে অবৈধ বালিঘাটগুলির কারবার।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অবৈধ বালি পাচারের রমরমা রুখতে প্রশাসনের তরফে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, বাস্তবে যে সেই পাচারে পুরোপুরি রাশ টানা সম্ভব হয়নি, তার প্রমাণ মিলেছে এই বর্ষাতেই। খাতায়-কলমে এই তিন মাস বৈধ ঘাটগুলি বন্ধ থাকলেও অবৈধভাবে বালি পাচার কিন্তু একদিনের জন্যও থেমে থাকেনি। সিউড়ি, দুবরাজপুর থেকে শুরু করে বোলপুর—জেলার প্রায় প্রতিটি থানা এলাকাতেই রাতের অন্ধকারে ট্রাক্টরে করে দেদার বালি পাচার হয়েছে। পুলিশ মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে বেশকিছু বালিবোঝাই ট্রাক্টর আটক করেছে ঠিকই, কিন্তু অভিযোগ, নজর এড়িয়ে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ট্রাক্টর পাচার হয়ে গিয়েছে। এছাড়া, পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকেও বেআইনি বালির লরি হামেশাই ঢুকেছে এই জেলায়।
পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে একশ্রেণির অসাধু বালি কারবারির দৌরাত্ম্য। অভিযোগ, জেলার বুকে অবৈধ ঘাটগুলি নির্বিঘ্নে চালাতে এই অসাধু চক্র সম্প্রতি রাজনৈতিক ‘দাদা’ থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্তাদের একাংশের কাছে রীতিমতো অনুনয়-বিনয় করেছে। নিজেদের বেআইনি কারবার সুরক্ষিত রাখতে যথাস্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে দামি উপঢৌকনও। ফলে, বৈধ ঘাটের আড়ালে এই অসাধু কারবারিদের বেআইনি বালির সিন্ডিকেট আগামী দিনে আরও ভয়ংকরভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক একাংশের অশুভ আঁতাত ভেঙে অবৈধ ঘাটের রমরমা রোখাই এখন জেলা প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ।
বালি মাফিয়াদের দাপট রুখে অবৈধ পাচার বন্ধ করতে পুলিশ প্রশাসন আগামী দিনে কতটা কড়া ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে জেলার সাধারণ মানুষ।



