সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রঘুনাথপুরে দিনের পর দিন বালির দাম বেড়েই চলেছে। এক ট্রাক্টর বালি কিনতে ক্রেতাকে আট থেকে সাড়ে আট হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। আকাশ ছোঁয়া দামের জন্য সমস্যায় পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ও বাংলার বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তারা। শুধু বালি কিনতেই অর্ধেক টাকা খরচ হওয়ার অবস্থা হয়েছে। ফলে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষও বাড়ি বানাতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে কাজ পাচ্ছেন না নির্মাণ শ্রমিকরাও। দ্রুত বালির দাম কমাতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রঘুনাথপুরের নিতুড়িয়া ও সাঁতুড়ি থানার পাশ দিয়ে দামোদর নদ গিয়েছে। বাম আমলে এলাকার বৈধ ঘাটগুলি থেকে বালি মিলত। তৃণমূল সরকার আসার পর বেশ কয়েক বছর বালি ঘাট চলেছিল। কিন্তু ২০১৮ পঞ্চায়েত নির্বাচনে পর এলাকায় অশান্তিকে কেন্দ্র করে ঘাটগুলি বন্ধ হয়ে যায়। প্রশাসনের তরফ থেকে রঘুনাথপুর বিধানসভা এলাকায় বালিঘাটে কড়া প্রশাসনিক নজরদারি শুরু হয়। ফলে ব্যবসায়ীরা পাশের জেলা বাঁকুড়ার বৈধ ঘাট থেকে বালি এনে ব্যবসা শুরু করতে থাকেন। আর সেই থেকে এলাকায় বালির কালোবাজারি শুরু হয়। সেই সময় কিছু ব্যবসায়ী প্রশাসনের নজর ফাঁকি দিয়ে ওভারলোডেড বালি এনে এলাকায় ট্রাক্টর প্রতি পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকায় দিচ্ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর চালান ও ওভারলোডেডের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি শুরু হয়। ফলে ব্যবসায়ীরা ওভারলোডেড আনতে না পেরে বালির দাম এক লাফে বৃদ্ধি হয়।
কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া জেলার বৈধ ঘাট থেকে বালি আনতে হচ্ছে। সরকার ৪০০ টাকা টন দাম নির্ধারণ করেছে। কিন্তু ঘাটে হাজার থেকে ১২০০ টাকা টন বালি নিতে হচ্ছে। ওভারলোডেড বন্ধ। একটি ডাম্পারে সর্বাধিক ৩২ থেকে ৩৪ টন বাড়ি আসছে। এক ট্রাক্টরে কম করে চার টন বালি ধরে। বালি আনতেই ট্রাক্টর প্রতি প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ পড়ে যাচ্ছে। তার উপর গাড়ির তেল, ড্রাইভার, খালাসি বেতন আছে। আবার ডাম্পারে বালি এনে ট্রাক্টরে করে অন্য জায়গায় নিতে আলাদা খরচ রয়েছে। ব্যবসার বাজার মন্দা। এক ডাম্পার বালি আনলে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা থাকছে না। গাড়ির লোনের কিস্তি রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে কোনোরকম ব্যবসা চালাচ্ছি। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর মানুষ সস্তায় বালি পাবে বলে ভেবেছিল। কিন্তু সস্তায় তো দূর, এখন তো বালি পাওয়াই যাচ্ছে না। রঘুনাথপুর শহর কংগ্রেস সভাপতি তারকনাথ পরামানিক বলেন, বালির সিন্ডিকেট রাজের রমরমা বেড়েই চলেছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বালির দাম। সরকারি নজরদারির অভাব রয়েছে। এলাকায় বৈধ ঘাট খোলায় বিধায়ক ও প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব দেখা দিয়েছে।
যদিও, রঘুনাথপুরের বিধায়ক মামনি বাউরি বলেন, প্রতিটি প্রশাসনিক বৈঠকে রঘুনাথপুর বিধানসভা এলাকায় বৈধ বালি ঘাট খোলার বিষয়ে দাবি রাখা হয়েছে। বালি ঘাট খুললেই মানুষ সস্তায় বালি পাবেন। অন্য জেলা থেকে বালি কিনতে হবে না। তবে, বর্ষা চলে আসায় ঘাট খোলা নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নজরে রয়েছে।