


ব্রতীন দাস, গজলডোবা: ‘ভোরের আলো’য় হেলিপ্যাড চত্বর থেকে দেদার বালি ও মাটি পাচার। তিস্তাচরের খাসজমি থেকে লাগাতার বালি-মাটি তোলায় গজলডোবার মিলনপল্লিতে হেলিপ্যাড চত্বরে হয়েছে বিশাল বিশাল পুকুর। স্থানীয়দের দাবি, তৃণমূলের মদতে দিনে-রাতে বালি ও মাটি তুলে পাচার হয়েছে এতদিন। রাজ্যে পালাবদলের পর অবশ্য গা ঢাকা দিয়েছে বালি মাফিয়ারা।
হেলিপ্যাড চত্বরের চারদিকে ফাঁকা পড়ে আছে কয়েকশো বিঘা জমি। সবটাই খাস বলে দাবি স্থানীয়দের। ওই জমিতে মাটি মাফিয়ারা যে থাবা বসিয়েছিল, তার চিহ্ন স্পষ্ট। হেলিপ্যাডের গা ঘেঁষে চার-পাঁচটি বিশাল জলাশয় তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন মাটি ও বালি তোলার ফলে বিশাল গর্ত হয়েছে। বৃষ্টির জলে এসব জলাশয়ের চেহারা নিয়েছে।
বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক দীনেশ সরকার। বলেন, আমার বিধানসভা এলাকায় বেশিরভাগ জায়গায় বেআইনিভাবে বালি তোলা বন্ধ হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় এখনও অবৈধভাবে বালি তোলার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, পাচার, সিন্ডিকেট, কাটমানি চলবে না। রাজগঞ্জে বালিপাচার বন্ধে প্রশাসন যাতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়, সেব্যপারে বলব।
দিনের পর দিন বালি ও মাটি তুলে পাচারের ফলে গজলডোবার মিলনপল্লি এলাকায় বিশাল বিশাল গর্ত তৈরি হলেও বিষয়টি জানা নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাজগঞ্জের ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক গোপাল বিশ্বাস। বলেন, এ ব্যাপারে কিছু জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।
সরকারি আধিকারিকরা স্বীকার না করলেও হেলিপ্যাড চত্বর থেকে বালি ও মাটি পাচার নিয়ে সরব হয়েছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা। বিজেপির রাজগঞ্জ-১ মণ্ডলের সম্পাদক সুজিত দে বলেন, হেলিপ্যাডে কোনোদিন হেলিকপ্টার নেমেছে কি না জানি না। কেনই বা করা হয়েছিল, সেটাও বলতে পারব না। তবে ওই জমির চারপাশ থেকে দেদার বালি ও মাটি চুরি হয়েছে। প্রশাসনের একাংশ ও তৃণমূলের মদতে ওই কারবার এতদিন চলেছে। আমরা এতদিন প্রতিবাদের সাহস পাইনি। আমাদের ধারণা, তিস্তাচরের খাসজমি থেকে বালি ও মাটি পাচারের টাকা অনেক প্রভাবশালীর কাছে গিয়েছে। তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
বিজেপির রাজগঞ্জ-৩ নম্বর শক্তিকেন্দ্রের প্রমুখ পরিমল রায়ের দাবি, গজলডোবায় হেলিপ্যাড চত্বরে কয়েকশো বিঘা যে খাসজমি আছে, তার কাগজপত্র তৈরি করে সেখানে কৃষিভিত্তিক শিল্পের জন্য দেওয়া হোক। স্থানীয় বিধায়কের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাব।
ভোরের আলোয় হেলিপ্যাড চত্বর থেকে কাদের মদতে বালি ও মাটি পাচার হয়েছে, সেব্যাপারে কিছু জানা নেই বলে দাবি করেছেন রাজগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা গজলডোবা ডেভেলপমেন্ট অথরিটির প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায়। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে ভোরের আলো প্রকল্প সাজানো সম্ভব হয়নি। তবে কারা বালি-মাটি পাচারে করেছে, সেসব নিয়ে বলতে পারব না। প্রশাসন তদন্ত করুক। • বালি-মাটি তোলার ফলে তৈরি হয়ে গিয়েছে জলাশয়। - নিজস্ব চিত্র।