


সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বিশ্বমঞ্চে বাংলার গোবিন্দভোগ চালের গরিমা বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির হাতে উপহার হিসেবে তুলে দিলেন বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই সুগন্ধী চাল। মোদির এমন উদ্যোগের পিছনে মূলত দু’টি উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এক, বিদেশ-বাণিজ্যে গোবিন্দ চালকে প্রাধান্য দেওয়া। দুই, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যে বাংলা বিরোধী নয়, সেটা বিশ্বদরবারে তুলে ধরা। সদ্য বাংলা বিজয়ের স্বপ্নপূরণ হয়েছে মোদির। আর সেই স্বপ্নপূরণ করতে গিয়ে নিজেকে যতটাসম্ভব ‘বাঙালিয়ানা’র মোড়কে মেলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। প্রচারে এসে ঝালমুড়ি খেয়েছেন। বক্ত্যব্যের শুরুতে বাংলায় কথা বলার চেষ্টা করেছেন। বাংলার মণীষীদের প্রসঙ্গ টেনেছেন। বর্ধমানের সীতাভোগের কথা উল্লেখ করেছেন। সবশেষে, ভোটের ফলাফল ঘোষণার দিন ধূতি-পাঞ্জাবি পরে পুরোদস্তুর ‘বাঙালিবাবু’ সাজে মোদি হাজির হয়েছিলেন বিজেপির সদর দপ্তরে। এবার ইতালির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক-দৌত্যে গোবিন্দভোগকে উপহার হিসেবে ব্যবহার করে তিনি আসলে বার্তা দিলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বাংলা বিদ্বেষী নয়।
পাঁচদিনে পাঁচ দেশীয় সফরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার তিনি ইতালিতে অবতরণ করেন। দু’দেশের কৌশলগত অংশদারিত্ব নিয়ে মোদি-মেলোনি বেশ কয়েকটি বৈঠক করেন। তার আগে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর হাতে বাংলার গোবিন্দভোগ, কেরলের লাল চালের পাশাপাশি অন্যান্য সামগ্রী তুলে দেন বলে সূত্রের খবর। বেঙ্গল রাইসমিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, ‘এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ গোবিন্দভোগের রপ্তানি বাণিজ্যে সহায়ক হবে বলে আমরা মনে করছি।’
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের রায়নার দু’টি ব্লক এবং খণ্ডঘোষে গোবিন্দভোগের চাষ হয়। রাজ্যে সব মিলিয়ে ৩৫ থেকে ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে এই সুগন্ধী ধান উৎপাদিত হয়। তারমধ্যে শুধু পূর্ব বর্ধমানে ২২ থেকে ২৪ হাজার হেক্টর জমি রয়েছে। গোবিন্দভোগ চাল জিআই তকমাও পেয়েছে। কেরলের পাশাপাশি গোবিন্দভোগের বড় বাজার রয়েছে মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলিতে। গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, ‘গত কয়েক বছরে জেলায় ধানের উৎপাদন কমে গিয়েছিল। আমাদের সরকারের উদ্যোগে বাংলা কৃষিতে হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনবে। ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে গোবিন্দভোগ চাল উপহার দিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। তার সুফল মিলবে বাংলায়। এখানকার চাষিরা উৎসাহিত হবেন এই সুগন্ধী ধান ফলাতে।
পূর্ব বর্ধমান ছাড়াও বাঁকুড়া, হুগলি, নদীয়া, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে এই ধান চাষ হয়। মাঝে বিদেশে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সুগন্ধী ধানের দাম অনেকটাই কমে গিয়েছিল। পরে নিষেধাজ্ঞা উঠে যেতে আবার ধানের দাম বেড়ে গিয়েছে। রায়নার চাষি শম্ভু দাস বলেন, ‘স্থানীয় বাজারে খুব বেশি গোবিন্দভোগ চাল বিক্রি হয় না। বাইরে এই চালের চাহিদা অনেক বেশি। তবে, অনেক সময় চাষিদের তুলনায় ফড়েরা এই ধান বিক্রি করে অনেক বেশি ফায়দা তোলে। ফড়েদের দাপট কমানো গেলে চাষিরা আরও বেশি উপকৃত হবেন। প্রধানমন্ত্রী এভাবে উদ্যোগ নিয়ে বিশ্বের বাজারে গোবিন্দভোগকে তুলে ধরলে এই চালের মর্যদা আরও বাড়বে।’