পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের পুজোর সূচনায় ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা সজল ঘোষের, বরানগরে তৃণমূলের বিজেপিকরণ!
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: রাজনীতির নীতিনির্ধারক কোনো ব্যক্তি নয়। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তা অমান্য করা যে যায় না— মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বরানগর লোল্যান্ডের পুজো উদ্বোধনে এসে দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে তা স্মরণ করিয়ে দিলেন স্থানীয় বিধায়ক সজল ঘোষ। আশ্চর্যজনক ভাবে ওই সময় মঞ্চে ছিলেন বরানগরের বিজেপি যুব নেতা অভিজিৎ সরকার। তিনি আগের দিনই লোল্যান্ড পুজো চত্বর ও আশপাশের এলাকায় ওই পুজোর মূল উদ্যোক্তা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দিলীপ নারায়ণ বসু’র (সুনু) বিজেপি যোগদানের সম্ভাবনাকে কটাক্ষ করে পোস্টার লাগিয়েছিলেন। তৃণমূলী সুনুকে যাতে বিজেপিতে না নেওয়া হয়, তা নিয়ে নানা বক্তব্য ছিল পোস্টারগুলিতে। এই পর্বে সজলের ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য পুজোর আবহে বরানগরের রাজনৈতিক মহলে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপির অনেকেই প্রশ্ন করছেন, তাহলে কি বিধায়ক ‘ভালো তৃণমূলী’দের দলে ঢোকানোর ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন? 

Advertisement

সোমবার রাতে লোল্যান্ড পুজো মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় বিজেপি যুব নেতা অভিজিৎ সরকার কর্মীদের নিয়ে একাধিক ব্যানার লাগান। তাতে বলা হয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গ্যাংয়ের সদস্য দিলীপ নারায়ণ বসু (সুনু) ও তৃণমূলের হার্মাদ, তোলাবাজদের বিজেপিতে মানছি না। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লোল্যান্ডের পুজোর উদ্বোধনের মঞ্চে বিধায়ক সজল ঘোষ, চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়, পুজোর মূল উদ্যোক্তা সুনুর সঙ্গে হাজির ছিলেন অভিজিৎ সরকার। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সজলবাবু বলেন, নিশ্চয়ই অনেকে ভাবছেন, যে সুনুদা আর আমি একই মঞ্চে কেন? এর আগের দিন তন্ময়দা ( সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য) আমার পুজোর উদ্বোধনে গিয়েছিলেন। দুর্গাপুজোর এই পাঁচ দিন, সাত দিন বা এখন বেড়ে প্রায় ১০ দিন হয়েছে। এই ক’টা দিন রাজনীতি একটু দূরে থাক। আমরা সকলে একে অপরের সঙ্গে বাঙালি হয়েই থাকি। রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় থাকবে। সুনুদার রাজনীতি সুনুদার থাকবে। এরপরই সজলের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘রাজনীতিতে আমি, আপনি বা আমাদের নীতি নির্ধারক কোনো ভূমিকা নেই। নেতৃত্ব কোনো সিদ্ধান্ত নিলে, তাকে অমান্য করারও ক্ষমতা আমাদের নেই।’ সজলবাবুর এই বক্তব্য উৎসবের আবহেও বরানগরের রাজনীতির কারবারিদের কাছে আলোচনার মূল বিষয়। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি তৃণমূলের কিছু নেতাকে বিজেপির নীতি নির্ধারকরা দলে ঢোকানোর ছাড়পত্র দিচ্ছেন? ছাড়পত্র দিলে তা বিরোধিতার কোনো জায়গা যে নেই, তাই কি স্পষ্ট করে দিতে চাইলেন সজলবাবু? বিজেপির যুব নেতা অভিজিৎ সরকার বলেন, লোল্যান্ডের পুজোর আমন্ত্রণ পত্রে কোথাও তো সুনুবাবুর নাম নেই। আমি আমন্ত্রণ পাওয়ায় গিয়েছি।  মঞ্চেও বসেছি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই জারি থাকবে। পুজো নিয়ে কোনও লড়াই নেই। বিধায়ক কী বলেছেন, কী বোঝাতে চেয়েছেন, সেটা উনিই বলতে পারবেন।