Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬

হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সইফুল্লাই মাস্টারমাইন্ড, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর জন্ম টিআরএফের

পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড়। কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বদলা নিতে ফুঁসছে গোটা ভারত।

হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সইফুল্লাই মাস্টারমাইন্ড, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর জন্ম টিআরএফের
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ২২:০৪

শ্রীনগর: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড়। কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বদলা নিতে ফুঁসছে গোটা ভারত। হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তোইবার স্থানীয় শাখা ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)। গোটা অপারেশনের মাস্টারমাইন্ড খোদ লস্করের ডেপুটি চিফ সইফুল্লা কাসুরি ওরফে খালিদ। কে এই খালিদ? টিআরএফ-ই বা কারা? মঙ্গলবারের হামলার পর থেকেই এই প্রশ্ন উঠেছে।

Advertisement

তদন্তকারীদের দাবি, মুম্বই হামলার মূলচক্রী তথা লস্কর প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের অতি ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত খালিদ। লস্করের পেশোয়ার হেডকোয়ার্টারের দায়িত্ব রয়েছে তার কাঁধে। লস্করের শাখা জামাত-উদ-দাওয়ার (জেইউডি) মধ্য পাঞ্জাব কো-অর্ডিনেশন কমিটিতেও কাজ করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, হামলার ঠিক দু’মাস আগে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে অবস্থিত কঙ্গনপুরে এসে ওঠে সইফুল্লা ওরফে খালিদ। এই এলাকাতেই পাকিস্তানি সেনার একটি বড় ব্যাটালিয়ন রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনওয়া প্রদেশে  চড়া সুরে ভারত বিরোধী ভাষণ দিতে শোনা গিয়েছিল তাকে। খালিদ বলেছিল, ‘আজ ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাশ্মীর দখল করতে আমরা প্রাণপাত করে ফেলব। হামলা আরও তীব্রতর করবে আমাদের মুজাহিদিনরা।’
এই লস্করের শাখা সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ‘টিআরএফ’। সেটা ২০১৯ সাল। সবেমাত্র জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এমনই এক পরিস্থিতিতে টিআরএফের উত্থান। নেতৃত্বে শেখ সাজ্জাদ গুল, সেলিম রেহমানি সহ কুখ্যাত জঙ্গিরা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, শুরু থেকেই কাশ্মীরে হিন্দুদের উপর হামলা, অস্ত্র পাচার, এলাকার যুবকদের ভুল বুঝিয়ে সংগঠনে শামিল করার মতো নানা নাশকতামূলক কাজে যুক্ত ছিল তারা। সেই সময় মূলত নানা সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপের মাধ্যমে চলত প্ল্যানিং আর অপারেশন। ধীরে ধীরে তেহরিক-ই-মিলাত ইসলামিয়া ও গজনভি হিন্দ সংগঠনের মদতে স্থানীয় এলাকায় নিজেদের নেটওয়ার্ক মজবুত করা হয়। ২০২৩ সালে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে টিআরএফ-কে ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে জম্মু-কাশ্মীরের রিয়াসিতে পুণ্যার্থীদের উপর হামলা, গান্ধেরবালে চিকিৎসক সহ পরিযায়ী শ্রমিকদের হত্যার নেপথ্যেও ছিল এই জঙ্গি সংগঠন। 
পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার দিন পাঁচেক আগে কাশ্মীরে গুলিবৃষ্টির হুমকি দিয়েছিল লস্কর-ই-তোইবার শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার আবু মুসা। ১৮ এপ্রিল পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অন্তর্গত রাওয়ালকোটের খাই গালার এক সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে আবু মুসা বলে, ‘তুমি পুলওয়ামা, পুঞ্চ, রাজৌরিতে রাম রাম শব্দ শুনতে চাও। ঠিক আছে। লস্কর-ই-তোইবা তোমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করল। ইনশাল্লাহ, কাশ্মীরে আমরা গুলির বৃষ্টি করব। রক্তে ভিজিয়ে দেব উপত্যকার মাটি।’

সম্পর্কিত সংবাদ