অনৈতিক উপায়ে দিল্লির মসনদে বসার পর উলেমার বিশেষ সমর্থন প্রয়োজন ছিল মুঘল বাদশাহ আওরঙ্গজেবের। আর সেই সমর্থন হাসিল করতে কট্টর ধর্মীয় অবস্থানকেই পাথেয় করেছিলেন শাহজাহান-পুত্র। ফলে মন্দির ধ্বংস করা তাঁর কাছে জলভাত হয়ে পড়ে। সেই রোষের কবলে পড়েছিল পুরীর জগন্নাথ মন্দিরও। তবে খুরদা সাম্রাজ্যের রাজা দ্রব্যসিংহ বা দিব্যসিংহের বুদ্ধির জোরে রক্ষা পায় বিগ্রহ-মন্দির। মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব পুরীর জগন্নাথ মন্দির যে সময় ধ্বংসের হুকুম দেন, তখন জগন্নাথ মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে দিব্যসিংহ। মুঘল সেনার সঙ্গে পেরে ওঠা অসম্ভব বুঝতে পেরে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহকে বিমলা মন্দিরের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে ফেললেন। সেই সংক্রান্ত খবর কাকপক্ষীতেও টের পেল না। এদিকে, জগন্নাথ মন্দির ধ্বংসের জন্য বিরাট সৈন্যদল পৌঁছল ওড়িশায়। দিব্যসিংহ আওরঙ্গজেবের অনুগত মীর মহম্মদকে জানালেন, তিনি নিজে জগন্নাথ মন্দির ভেঙে দেবেন। শুধু তাই নয়, মন্দির ভেঙে জগন্নাথ বিগ্রহ সম্রাটের কাছে পাঠিয়ে দেবেন। তার আগে তিনি বাদশাহের সঙ্গে পরিচয় করতে চান। মীর মহম্মদ যেন ব্যবস্থা করে দেন। আওরঙ্গজেব তখন মারাঠা দমনে ব্যস্ত। তাঁর সময় কোথায়! ফলে কিছুটা সময় পেলেন দিব্যসিংহ। তখন তিনি মন্দিরের সামনের দু’টি তোরণ এবং সিংহদ্বারে রাখা একটি রাক্ষস মূর্তি ভেঙে দেন। তারপর চন্দন কাঠ দিয়ে একটি বড় জগন্নাথ মূর্তি তৈরি করিয়ে সেটি পাঠিয়ে দেন আওরঙ্গজেবের কাছে। জগন্নাথদেবের চোখের জায়গায় রাখা দু’টি হিরেও সঙ্গে পাঠিয়ে দিলেন তিনি। বিজাপুরে যুদ্ধে ব্যস্ত আওরঙ্গজেবের কাছে পৌঁছল নকল জগন্নাথের মূর্তি। সেই মূর্তি পেয়ে বাদশাহ ভাবলেন, মন্দির ধ্বংস হয়ে গিয়েছে নিশ্চয়। ওদিকে, বাদশাহের দলবল মন্দিরের কিছু অংশ ভেঙে দিয়েছিল। তবে রাজা দিব্যসিংহ সেই দলের সর্দার গোছের নেতাদের ঘুষ দিয়ে হাত করে নিলেন। তারা আর মন্দিরের বাকি অংশের দিকে অগ্রসর না হয়ে ফিরে গেল। এরপর তিনটি বিগ্রহকে বিমলা মন্দির থেকে আবার উপযুক্ত স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে খাতায়-কলমে ভাঙা হওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় মন্দির। আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পরে আবার পুরীর জগন্নাথ মন্দির খুলে দেওয়া হয়।



