Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

শচীনকর্তার ক্রীড়া-প্রেম

শচীনকর্তার ক্রীড়া-প্রেম
  • ২৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ইস্ট বেঙ্গল ৫-মোহন বাগান ০। ফল শুনে একবার চোখ মেলে তাকিয়েছিলেন কোমায় থাকা শচীনকর্তা। তার কিছু সময় পরেই মৃত্যু হয় সঙ্গীত জগতের মহীরুহ শচীন দেব বর্মনের। তাঁর ক্রীড়াপ্রেম এবং ইস্টবেঙ্গল-প্রীতি ছিল কিংবদন্তি পর্যায়ের। নিজে ছিলেন একজন তুখোড় টেনিস প্লেয়ার। টান ছিল ফুটবল খেলাতেও। ফুটবলের জন্য সঙ্গীত সাধনার ক্ষতি হতো বলে একবার তাঁর গুরু কৃষ্ণচন্দ্র দে (মান্না দের কাকা) জানতে চেয়েছিলেন, ‘তুমি খেলোয়াড় হতে চাও নাকি সঙ্গীত শিল্পী?’ সেইদিন সঙ্গীত বেছে নিয়েছিলেন শচীনকর্তা। ১৯৭৫ সালে ‘মিলি’ ছবির সুর সৃষ্টির সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে চলে যান কোমায়। সেই সময় আইএফএ শিল্ডের একটি বড় ম্যাচ ইতিহাসে নাম তোলে। ৫-০ গোলে চির প্রতিদ্বন্দ্বী মোহন বাগানকে হারায় ইস্ট বেঙ্গল। বাবার ইস্ট বেঙ্গল সংক্রান্ত প্রবল আবেগ, উচ্ছ্বাসের কথা জানতেন ছেলে রাহুল দেব বর্মন। ম্যাচের এমন ফলাফল কানে আসতেই বাবার কাছে ছুটে যান রাহুল। কোমায় আচ্ছন্ন বাবাকে চিৎকার করে খবরটি শুনিয়েছিলেন। ছেলের তীব্র চিৎকার শুনে শচীনকর্তা একবার চোখ মেলে তাকান। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এই ঘটনা সবাইকে বিস্মিত করেছিল। আবার ক্রিকেটের সঙ্গেও পরোক্ষভাবে তিনি জড়িয়ে রয়েছেন চিরকাল। ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকরের বাবা রমেশ তেন্ডুলকর তখন মারাঠি সাহিত্যজগতে বেশ পরিচিত নাম। তিনি আবার শচীন দেবের গানের অন্ধ ভক্ত। তাঁর যখন ছেলে হল, তখন নিজের নামের আগে প্রিয় শচীনকর্তার ‘শচীন’ অংশটুকু নিয়ে ছেলের নাম রাখলেন। শচীন রমেশ তেন্ডুলকর। বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেটারের নামের সঙ্গে ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের হৃদয়েও জুড়ে রয়েছে শচীনকর্তার নাম।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ