


নয়াদিল্লি: সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে ‘হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি’ কথাটি এখন খোঁচা হিসাবে ব্যবহার করা হয়। সাধারণত ভুয়ো খবর, অপপ্রচার এবং অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যকে বোঝাতে এই ব্যাঙ্গাত্মক শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়। এবার সুপ্রিম কোর্টেও উঠে এল এই শব্দ। কেরলের সবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে স্বয়ং বিচারপতি বি ভি নাগরত্না বলেন, হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি থেকে নেওয়া তথ্য আদালতে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সবরীমালায় মহিলাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রায় দেয়। সেই রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে পঞ্চাশটিরও বেশি মামলা দায়ের হয়েছিল শীর্ষ আদালতে। গত ৭ এপ্রিল থেকে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর নেতৃত্বাধীন ৯ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে শুরু হয় সেগুলির চূড়ান্ত শুনানি। বৃহস্পতিবার ছিল শুনানির অষ্টম দিন। এদিন, শীর্ষ আদালতে শুধু হিন্দু সংগঠন নয়, মুসলিম, দাউদি বোহরা, পারসি ও জৈন গোষ্ঠীর পক্ষ থেকেও যুক্তি পেশ করা হয়। দাউদি বোহরা সংগঠনের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সিনিয়র আইনজীবী নীরজ কিশন কৌল ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে শশী থারুরের লেখা একটি প্রবন্ধের উদ্ধৃতি দেন। এর জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, আদালত লেখকদের মতামতকে সম্মান করলেও যুক্তি আইনের ভিত্তিতে হওয়াই শ্রেয়। তার সঙ্গে বিচারপতি নাগরত্না যোগ করেন, ‘জ্ঞানকে তখনই সম্মান করা উচিত, যদি তা হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটির থেকে না আসে।’ তবে বিষয়টা নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। একে একে অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, একটি মুসলিম সংগঠনের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এম আর শামশাদ মসজিদে নারীদের প্রবেশাধিকারের বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি যুক্তি দেন, ইসলামে নারীদের মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়া বাধ্যতামূলক নয়। বাড়িতে নামাজ পড়লেও সমান আধ্যাত্মিক মর্যাদা মেলে। এর পরেই মুসলিম ল বোর্ডের প্রতিনিধি জানান, মহিলাদের মসজিদে প্রবেশে বাধা নেই। নামাজও পড়া যাবে। কিন্তু নারী-পুরুষ আলাদা প্রবেশ বাধ্যতামূলক বলে জানান তিনি।