নিউ ইয়র্ক: হাতে বাঘিনীর ট্যাটু! কোর্টের লড়াইয়েও সেভাবেই থাবা বসান। শনিবার ইউএস ওপেনে মহিলাদের সিঙ্গলস ফাইনালে ফের একবার তার প্রমাণ রাখলেন আরিনা সাবালেঙ্কা। আমেরিকার আমান্দা আনিসিমোভাকে ৬-৩, ৭-৬ (৭-৩) স্ট্রেট সেটে উড়িয়ে দিলেন শীর্ষ বাছাই তারকা। ফ্ল্যাশিং মিডোয় সেই সঙ্গে খেতাবও ধরে রাখলেন তিনি। সেরেনা উইলিয়ামসের (২০১৩ ও ২০১৪) পর প্রথম মহিলা প্লেয়ার হিসেবে এই কৃতিত্ব দেখালেন বেলারুশের সুন্দরী। সবমিলিয়ে তাঁর ঝুলিতে এখন চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম খেতাব।
ফাইনালে ফেভারিট হিসেবে কোর্টে পা রেখেছিলেন সাবালেঙ্কা। তবে পাহাড়প্রমাণ চাপ ছিল মাথার উপর। কারণ, চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও ফরাসি ওপেনের ফাইনালে হারতে হয়েছিল তাঁকে। তাছাড়া আমেরিকার ঘরের মেয়ে আমান্দার সঙ্গে ছিল ভরা গ্যালারির সমর্থন। কিন্তু চাপের কাছে মাথা নত করা সাবালেঙ্কার স্বভাবে নেই। প্রথম সেটে প্রতিপক্ষকে দাঁড়াতেই দেননি তিনি। ৬-৩ ব্যবধানে সেট দখল করেন। দ্বিতীয় সেটে অবশ্য কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আমান্দা। কিন্তু শেষরক্ষা করতে পারেননি। টাই-ব্রেকারে জিতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সাবালেঙ্কা। ট্রফি হাতে ভাসলেন আবেগের জোয়ারে। আবার কখনও প্রিয়জনদের সঙ্গে মাতলেন খুনসুটিতে। আসলে সাবালেঙ্কা এমনই প্রাণবন্ত। তিনি বলছিলেন, ‘ফাইনালের আগে কিছুটা চিন্তিত ছিলাম। কারণ, পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেলেও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে ছন্দপতন ঘটেছিল। ফরাসি ওপেনেও তারই পুনরাবৃত্তি। ফাইনালে হোঁচট খাওয়ার প্রবণতা চিন্তায় ফেলেছিল। তবে এদিন ফোকাস ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর ছিলাম। শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিততে পেরে খুবই খুশি।’
লকার রুমে সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে সাবালেঙ্কার সেলিব্রেশনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। সাংবাদিক সম্মেলনে এই জয় তিনি উত্সর্গ করেছেন প্রয়াত বাবাকে। সাবালেঙ্কার কথায়, ‘২০১৯ সালে বাবার মৃত্যুর পর হতাশা গ্রাস করেছিল আমায়। তবে পরে এই ধাক্কাটাকে অনুপ্রেরণায় বদলে ফেলি। আমাদের পরিবারের নাম ইতিহাসে তোলার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। সেই লক্ষ্যে আমি সফল।’ অন্যদিকে, উইম্বলডনের পর ইউএস ওপেনের ফাইনালেও স্বপ্নভঙ্গে হল আমান্দার। তিনি বলছিলেন, ‘নিজের পারফরম্যান্সে খুশি নই। আরও ভালো খেলা উচিত ছিল। যোগ্য হিসেবেই জিতেছে সাবালেঙ্কা। ওকে অভিনন্দন। আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব।’