Bartaman Logo
৮ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের মেগা অভিযানের ধাক্কা, ফুড লাইসেন্স করার হিড়িক

খাদ্যদ্রব্যের গুণমান নিয়ে কড়া নজরদারি এবং মেগা অভিযানের জেরে নদীয়া জেলায় ফুড লাইসেন্স করানোর প্রবণতা বেড়েছে।

খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের মেগা অভিযানের ধাক্কা, ফুড লাইসেন্স করার হিড়িক
  • ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: খাদ্যদ্রব্যের গুণমান নিয়ে কড়া নজরদারি এবং মেগা অভিযানের জেরে নদীয়া জেলায় ফুড লাইসেন্স করানোর প্রবণতা বেড়েছে। আগে প্রতি মাসে সাধারণত গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০টি ফুড লাইসেন্সের আবেদন জমা পড়ত। সেপ্টেম্বর মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় হাজার। এর মধ্যে প্রায় ১২০০টি লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে বলে জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।

Advertisement

দুর্গাপুজোর আগে খাদ্যদ্রব্যের গুণমান নিয়ে রাজ্যজুড়ে অভিযান চালানো হয়। নদীয়ায় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের ধারাবাহিক অভিযানে একের পর এক অনিয়মের ছবি সামনে আসে। বিরিয়ানি থেকে সস, মশলা থেকে বেকারি সামগ্রী বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দোকানে অভিযান চালিয়ে কোথাও বাসি বা পচা মাংস, কোথাও আবার সন্দেহজনক রাসায়নিকের ব্যবহার ধরা পড়েছে। ফলে প্রশাসনের কড়া নজরদারির মধ্যেই ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে লাইসেন্স করিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা এক সপ্তাহ নদীয়া জেলার বিভিন্ন ব্লকের বড়ো বাজারগুলিতে মেগা অভিযান চালানো হয়। জেলার ২৫২টি জায়গায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যবসায়ীর ফুড লাইসেন্স নেই বলে দেখা যায়। নিয়মভঙ্গের অভিযোগে ১২টি দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে সস, মশলা, চানাচুর, বেকারি প্রোডাক্ট, বোতলবন্দি জল সহ একাধিক খাদ্যপণ্য রয়েছে। অনিয়মের অভিযোগে মোট ৮৪টি মামলা করা হয়েছে। যেগুলির শুনানি আগামী দিনে হবে। এর মধ্যে প্রায় ২০ থেকে ২২টি মামলা বিরিয়ানি দোকান সংক্রান্ত বলে দপ্তর সূত্রে খবর।
বেশ কয়েকটি বিরিয়ানি দোকানে আগের দিনের রান্না করা মাংস ফ্রিজে রেখে পরের দিন ফের ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে। কোথাও আবার পচা মাংসও উদ্ধার হয়েছে বলে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের দাবি। অভিযানের সময় সেই মাংস নষ্ট করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি কিছু দোকানে বিরিয়ানির রং ও আকর্ষণ বাড়াতে শিল্পকর্মে ব্যবহৃত ‘কামধেনু’ রং ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে নদীয়ার চাপড়া এবং কালীগঞ্জের দেবগ্রামের দু’টি রেস্তরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নবদ্বীপে একটি সস তৈরির কারখানাও বন্ধ করা হয়েছে। অভিযোগ, সেখানে টমেটো সসের পরিবর্তে পচা আলু ও কুমড়ো ব্যবহার করে সস তৈরি করা হচ্ছিল।
তবে খাদ্যে ভেজালের অভিযোগ নদীয়ায় নতুন নয়, অতীতে জারে জীবাণুযুক্ত জল বিক্রির অভিযোগে জেলার একাধিক জল তৈরির প্ল্যান্ট বন্ধ করা হয়েছিল। ভেজাল ধনে, কালো জিরে সহ বিভিন্ন মশলা উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। শান্তিপুরের ফুলিয়া এলাকায় ভেজাল ঘি তৈরির অভিযোগে অতীতেও অভিযান চালিয়ে ডালডা দিয়ে তৈরি ঘি উদ্ধার করা হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বরের মেগা অভিযানের পর ফুড লাইসেন্সের আবেদনে যে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটেছে, তা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। নদীয়া জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, সেপ্টেম্বর মাসে লাইসেন্স করানোর জন্য অনেক বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সেই মতো লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ