


নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: চিন্তা বাড়াচ্ছে রূপনারায়ণ। বিপদসীমা অতিক্রম করেছে আগেই। দ্বারকেশ্বর নদেও জল বাড়তে শুরু করেছে। ফলে খানাকুল সহ আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন জায়গাতেই বাসিন্দারা চিন্তায় পড়েছেন। খানাকুল ২ ব্লকের মারোখানা, জগৎপুর, ধান্যঘোরী প্রভৃতি পঞ্চায়েত এলাকার গ্রামগুলিতে এখনও জল জমে রয়েছে। একইসঙ্গে এদিন ডিভিসি জল ছেড়েছে ৫১ হাজার ৯৫০ কিউসেক হারে। এছাড়া এদিন সকাল পর্যন্ত আরামবাগ মহকুমায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৮. ৫০ মিলিমিটার।
সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দ্বারকেশ্বরে জলস্তর ছিল ১২.৬৯ মিটার। দুপুরের পর থেকে সেখানে জল বাড়তে শুরু করে। রূপনারায়ণে এদিন জলস্তর ছিল ৬.৯৫ মিটার। মুন্ডেশ্বরী, দামোদরে জল স্তর কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে সেচদপ্তর।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলাবতী ও দ্বারকেশ্বরের জলের চাপে খানাকুলে রূপনারায়ণ ফুলে ফেঁপে উঠেছে। তার উপর জোয়ার আসতেই তীরবর্তী গ্রামগুলিতে জল ঢুকে পড়েছে। জল বেরোতে বেশি সময় লাগছে। ফলে, গত কয়েকদিন ধরে গোটা এলাকা জলমগ্ন। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে এদিন খানাকুলের দু’টি ব্লকে যান সাংসদ মিতালি বাগ। সেখানে ব্লক প্রশাসন ও পঞ্চায়েত সমিতির জন প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে যোগ দেন হুগলি জেলা পরিষদের কো-মেন্টর হায়দার আলিও।
সাংসদ বলেন, ‘জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হলে পানীয় জলের সমস্যা তৈরি হয়। সেইজন্য জলের পাউচ সরবরাহ করতে একটি বিশেষ গাড়ির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিছু জায়গায় যাতায়াতের জন্য নৌকা আনা হচ্ছে। প্রয়োজন মতো ত্রাণ শিবির খোলারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, খানাকুল ১ ব্লকের ঠাকুরানিচক এলাকায় ভাঙা সেতু দিয়ে বাসিন্দারা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। সেইজন্য সেখানে নৌকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এদিনও মারোখানা সহ কয়েকটি জায়গায় জল জমে ছিল। নদী বাঁধের বিভিন্ন জায়গায় জোর গতিতে নির্মাণ কাজ চলছে। তবে জল বাড়তে থাকায় কাজ নিয়েও চিন্তা রয়েছে বলে মনে করছেন সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা। স্থানীয় ধলডাঙ্গার বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ হাইত বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরেই রাস্তাগুলি নদীর জলে ডুবে রয়েছে। তারফলে যাতায়াত সবচেয়ে বেশি সমস্যায় হয়েছে। নদী পেরিয়ে নৌকায় চেপে কোনওভাবে বাজার যেতে হচ্ছে।’ বন হিজলির বাসিন্দা অসীম পাল বলেন, ‘রূপনারায়ণের জল ঢুকেছে গ্রামে। নিচু এলাকাগুলিতে বাসিন্দাদের নৌকাই ভরসা।’
সেচ দপ্তরের আরামবাগ ইরিগেশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার দীনবন্ধু ঘোষ বলেন, ‘বেরা পাড়ার বাঁধে সামান্য মাটি সরেছিল। সেটি খুব স্বাভাবিক ঘটনা। দ্রুত সেখানে মেরামতির কাজও করা হচ্ছে। যথেষ্ট উঁচু করে বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। তারফলে এক্ষুনি আতঙ্কের কিছু নেই। জল স্তর চরম বিপদ সীমায় পৌঁছালে সমস্যা হতে পারে।’