নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বরের আগে এবং পরে বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও ক্ষমতার ভরকেন্দ্র কি একইরকম থেকে যাবে? নাকি সূক্ষ্মভাবে বদলের পথে এগচ্ছে বিজেপির অন্দরমহল? আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ৭৫ পূর্ণ করছেন নরেন্দ্র মোদি। তারপর মোদি অবসর নেবেন? নাকি একইভাবে পূর্ণ মেয়াদ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদে থেকে যাবেন? এই জল্পনা, চর্চা এবং গুঞ্জন বিগত এক বছর ধরেই চলছে। জল্পনায় জল ঢেলে অমিত শাহ অবশ্য বলেছেন, ‘মোদিজি ২০২৯ সালেও প্রধানমন্ত্রী হবেন।’ যদিও এ যে নিছক অতিশয়োক্তি, সেটা দিয়ে দলের অন্দরেও বিশেষ সন্দেহ নেই। কিন্তু আপাতত অবসর নয়, বিজেপির অন্দরে সবথেকে বড় আলোড়ন চলছে সঙ্ঘ বনাম মোদি-শাহের ক্ষমতা ও প্রভাবের টানাপোড়েন নিয়ে। অবসর দূরঅস্ত, দলের মোদিপন্থী অংশ মোদির ৭৫তম বর্ষপূর্তি পালনের পরিকল্পনা নিয়ে ফেলেছে। আবার মোদির ৭৫ বছর বয়স হওয়ার আগেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে নিজেদের পছন্দের নেতাকে বসাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ। কেন? দলীয় সূত্রের খবর, মোদির ৭৫ বছর এবং সঙ্ঘের শতবর্ষ এবার সেপ্টেম্বর মাসের এক সপ্তাহের ব্যবধানেই হতে চলেছে। মোদি অবসর গ্রহণ না করলেও দলের রাশ সম্পূর্ণভাবে তাঁর ও অমিত শাহের হাতেই থাকবে—এটা সঙ্ঘের মনঃপূত নয়। তারা নিজেদের হাতেই রাখতে বিজেপির চালিকাশক্তির ফর্মুলা। অনেক দেরি হয়েছে। আরএসএস তাই চাইছে জুলাই মাসের মধ্যেই যেন নতুন সর্বভারতীয় সভাপতির নাম ঘোষণা করে দেওয়া হয়। এমনকী সেটা ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে করার বার্তা দিয়েছে সঙ্ঘ নেতৃত্ব। জগৎপ্রকাশ নাড্ডা বিজেপির সভাপতি পদে দু’বার এক্সটেনশন পেয়েছেন। তাঁর বিদায় আসন্ন। কিন্তু এবার আর মোদি এবং অমিত শাহের একক ইচ্ছায় সঙ্ঘ সিলমোহর দেবে না। একান্তভাবেই সঙ্ঘের অনুগত কাউকে বসানো হবে ওই পদে। সেই চাপেই বিজেপি এবার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সাংগঠনিক নির্বাচন ও সভাপতি মনোনয়ন পর্ব শুরু করেছে। আজই হবে বঙ্গ বিজেপির সভাপতি পদের মনোনয়ন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এই পর্ব সাঙ্গ হলে আজই স্পষ্ট হবে, কে নতুন সভাপতি। আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির নাম ঘোষণা করা হবে আগামী কাল, বৃহস্পতিবার। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দীর্ণ বঙ্গ বিজেপির সভাপতি পদে আবার সুকান্ত মজুমদারই মনোনীত হবেন? নাকি শেষ মুহূর্তে কোনও চমক উপস্থিত হবে, সেটা জানা যাবে আজই। বাংলার মনোনয়ন সহ এই সপ্তাহেই মোট ২৪টি রাজ্যের সভাপতি মনোনয়ন পর্ব সমাপ্ত হয়ে যাবে। বিজেপির সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ৩৭টি রাজ্য ইউনিটের মধ্যে ১৯টি রাজ্যের সভাপতি নির্বাচন হয়ে গেলে সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া করা যায়। কিন্তু আগামী ছ’দিনের মধ্যেই বিজেপি ২৪ থেকে ২৫টি রাজ্যের সভাপতি ঘোষণার কাজ শেষ করে ফেলবে। মিজোরাম ও পুদুচেরির সভাপতির নাম জানানো হয়েছে সোমবার। হিমাচল, আন্দামান, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, উত্তরাখণ্ড ও মহারাষ্ট্রের সভাপতির নামও ঘোষণা হয়ে গিয়েছে মঙ্গলবার।



