


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অষ্টাদশ বিধানসভার স্পিকার হচ্ছেন কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। বৃহস্পতিবার রাজ্যের আইনসভার পরবর্তী অধ্যক্ষ পদে মনোনয়ন জমা দেন পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্টট্যান্ট (সিএ) রথীনবাবু। পর্যাপ্ত সময়ের মধ্যে বিকল্প কোনো প্রার্থী এই পদের জন্য আবেদন করেননি। তাই আজ শুক্রবার সর্বসম্মতভাবে পাঁচবছরের জন্য বিধানসভার শীর্ষপদে বসতে চলেছেন রথীন্দ্র বসু।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আশা করব পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ঐতিহ্য মেনে বিরোধীরা অধ্যক্ষ পদে রথীন্দ্র বসুকে সমর্থন করবেন। বিচারধারার প্রতি অনুগত এবং উচ্চশিক্ষিত এই মানুষটি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠেই বিধানসভা পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন দিনের সূচনা করবেন। ‘রথীন্দ্রবাবুর সময়ে বিরোধী দলনেতাকে ১১ মাস বিধানসভার বাইরে রাখা হবে না’—নাম না করে প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। রথীন্দ্র বসু দলের মধ্যে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। মূলত পর্দার পিছনে থেকেই কাজ করতে ভালোবাসেন তিনি। রথীন্দ্র বসু রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক এবং সহসভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনিক পদ সামলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাছাই করা ৫২টি বক্তৃতার বাংলা সংকলন করে বই লিখেছেন তিনি। তারপর স্বয়ং মোদিজি রথীন্দ্রবাবুকে ধন্যবাদ জানান। ভাবী স্পিকার রথীন্দ্র বসু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি আমায় এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপালনের সুযোগ করে দিয়েছেন। কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মর্যাদা রক্ষা এবং জনস্বার্থে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করব। বিধায়ক হিসাবে বুধবার বিধানসভায় শপথ নেন তিনি। সূত্রের দাবি, জরুরি কাজে তাঁর কলকাতার বাইরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শপথের দিনেই তাঁকে পার্টির শীর্ষ স্তর থেকে কলকাতা না-ছাড়ার বার্তা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ফের দ্রুত বিধানসভায় আসার নির্দেশ দেওয়া হয় তাঁকে। সকাল ১১টার কিছু পরে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে এই সুখবর শোনান। অন্যদিকে, এদিন জয়ী প্রার্থীদের বিধায়ক হিসাবে শপথগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং দুই বর্ধমানের জয়ী প্রার্থীদের শপথ বাক্যপাঠ করান প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। চৌরঙ্গির বিধায়ক এদিন বিধানসভা কক্ষে ঢুকতেই একাধিক বিজেপি বিধায়ক ‘জয় শ্রীরাম ধ্বনি’ তোলেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরনি শপথবাক্য পাঠ করতে যাওয়ার সময়ও একই ঘটনা ঘটে। সেসময় বিরোধী দল তৃণমূলের বেঞ্চে কোনো জয়ী প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন না। স্বভাবতই রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়েন নয়না। তা দেখে বিধানসভার এক কর্মী বলেন, এটাই সময়ের বিধান। গত পাঁছবছরে নয়না বন্দ্যপাধ্যায়, শশী পাঁজা প্রমুখ মহিলা বিধায়ক তৎকালীন বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিদের বলতেই দিতেন না।
এদিকে, হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক প্রদীপ বিজলি এদিন কিড স্ট্রিটের এমএলএ হস্টেল থেকে সাইকেল চেপে বিধানসভায় আসেন। প্রধানমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে গাড়ির তেল সাশ্রয়ে তাঁর এই উদ্যোগ। দাবি বিধায়কের। রথীন্দ্র বসু। -নিজস্ব চিত্র