নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা খোলার অভিযোগ উঠেছে মালদহ ডিভিশনের ডেপুটি এক্সসাইজ কালেক্টার এবং ওই এক্সসাইজ দপ্তরের সুপারিনটেনডেন্টের বিরুদ্ধে। মালদহে আবগারি দপ্তরের অফিস চত্বরেই খোলা হয়েছিল এই চিটফান্ড কোম্পানি। বিপুল পরিমাণ রির্টানের টোপ দিয়ে সাধারণ আমানতকারী এবং আবগারি দপ্তরের কর্মীদের থেকে তোলা হচ্ছিল কোটি কোটি টাকা। এক্সসাইজ দপ্তরের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে ডেপুটি এক্সসাইজ কালেক্টার শুভদীপ ঘোষ ও তাঁর ভাই অগ্নি মিত্রকে সোমবার রাতে হুগলি থেকে গ্রেপ্তার করেছে ডিরেক্টরেট অব ইকোনোমিক অফেন্সেসেস (ডিইও)। খোঁজ চলছে অভিযুক্ত সুপারিনটেনডেন্টের।
ডিইও সূত্রের খবর, ২০২৪ সাল নাগাদ বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা খোলেন এই ডেপুটি এক্সসাইজ কালেক্টার ও সুপারিনটেনডেন্ট। বলা হয়, এই কোম্পানির দেশে-বিদেশে একাধিক ব্যবসা রয়েছে। এমনকি ‘মউ’ (চুক্তি) রয়েছে বিদেশের বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে। এখানে টাকা রাখলে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ রিটার্ন পাওয়া যাবে। মালদহ ডিভিশনের আবগারি দপ্তরের অফিসে আম জনতা ও সেখানকার অফিস কর্মীদের ডেকে পাঠিয়ে বিভিন্ন স্কিম তুলে ধরে দাবি করা হত, এটি আর পাঁচটা চিটফান্ড সংস্থা নয়। তাই এখানে টাকা রাখা রীতিমতো নিরাপদ।
আবগারি দপ্তরের দুই আধিকারিকের কথায় আশ্বস্ত হয়ে দপ্তরের অনেক কর্মী ও সাধারণ আমানতকারী টাকা রাখতে শুরু করেন। প্রথম তিন-চার মাসের মধ্যে বিপুল পরিমাণ রিটার্ন দিতেন তাঁরা। বাড়তি লাভের আশার অনেকেই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ শুরু করেন। আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতেন আবগারি দপ্তরের অভিযুক্ত আধিকারিকের ভাই। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই টাকা আসা বন্ধ হয় আমানতাকারীদের কাছে। ২০২৫ সালের মে থেকে গত জুন পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়ে যায়। কিন্তু টাকা রেখে কেউই ফেরত পাচ্ছিলেন না।
প্রাথমিভভাবে ৪৭ জন বিনিয়োগকারীর খোঁজ মিলেছে। টাকা চাইতে গেলে এই দুই আবগারি কর্তা আমানতকারী ও তাঁর নিজের দপ্তরের কর্মীদের বিভিন্নভাবে ভয় দেখান বলে অভিযোগ। কর্মীদের এমনও হুমকি দেওয়া হয়, বিষয়টি নিয়ে কেউ উপরতলায় অভিযোগ জানালে তাঁদের পরিণতি হবে ভয়ংকর! অভিযোগকারীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোরও ভয় দেখানো হয়। বিষয়টি জানার পরই আবগারি দপ্তরের তরফে ডিইওকে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই গত ৭ আগস্ট ওই দুই আধিকারিক এবং এজেন্টের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণার একাধিক ধারায় কেস রুজু করা হয়।
যে অফিসে বসে এই বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা চলছিল সেখানেও যান ডিইও অফিসাররা। তাঁরা দেখেন, তথাকথিত কোম্পানির ঝাঁপ গুটিয়ে গিয়েছে। ওই সংস্থার অ্যাকাউন্টের নথি বিশ্লেষণ করে অফিসাররা দেখেন, সেখানে বিপুল পরিমাণ টাকা ঢুকেছে। এরপর ভুয়ো লেনদেন দেখিয়ে বার করে দেওয়া হয়েছে সেই বিপুল পরিমাণ অর্থ। ওই দুই আধিকারিকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। এরপরই ডেপুটি এক্সসাইজ কালেক্টার শুভদীপ ঘোষ এবং তাঁর ভাইকে গ্রেপ্তার করে ডিইও। ধৃতদের জেরা করে জানার চেষ্টা হচ্ছে, লোক ঠকানো টাকাগুলি ঠিক কোথায় সরানো হয়েছে।