


লন্ডন: গ্যারেজে ঝলমল করছে একের পর এক দামি, বিলাসবহুল গাড়ি। পোর্সে ৯১১ টার্বো এস, রেঞ্জ রোভার স্পোর্ট, বিএমডব্লু আই৫, লাম্বোর্গিনি, ফেরারি ৪৮৮ ইতালিয়া— কী নেই! লাক্সারি কারের প্রতি ডিয়োগো জোতার আকর্ষণের নিদর্শন। এক্ষেত্রে মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে তাঁর অদ্ভুত মিল। কিন্তু কে জানত সুপার ফাস্ট সেই গাড়িই একদিন কেড়ে নেবে পর্তুগালের উদীয়মান তারকার প্রাণ! জাতীয় দলের কিংবদন্তি সহযোদ্ধা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো স্তম্ভিত। জোতার অকাল মৃত্যুর খবর যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না পর্তুগিজ মহাতারকার। ইনস্টাগ্রামে শোকবার্তায় রোনাল্ডো লিখেছেন, ‘এমনটা তো কথা ছিল না। মাত্র কিছুদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলা শুরু করেছিলে। কয়েকদিন আগে বিবাহের মাধ্যমে সূচনা করেছিলেন জীবনের নতুন ইনিংস। সকলকে ছেড়ে এভাবে তোমার চলে যাওয়াটা উচিত হয়নি। তোমার পরিবার, স্ত্রী, সন্তানদের প্রতি রইল আমার সমবেদনা। আমি জানি, তুমি সর্বদা তাদের সঙ্গে থাকবে। ডিয়োগো ও আন্দ্রে— তোমাদের আত্মার শান্তির কামনা করি। আমরা তোমাদের মিস করব।’ লিভারপুলের প্রাক্তন কোচ জুরগেন ক্লপ বলেন, ‘এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। ডিয়োগো, তুমি শুধু একজন প্রতিভাবান ফুটবলারই ছিলে না, বন্ধু, স্বামী এবং বাবা হিসেবেও মন ছুঁয়েছ সকলের। তোমার অভাব সবসময় অনুভব করব।’
স্বদেশীয় ক্লাব পাকোস ডে ফেরেইরায় আবির্ভাবেই নজর কাড়েন জোতা। দু’বছর খেলার পর ২০১৬ সালে যোগ দেন স্পেনের আতলেতিকো মাদ্রিদে। তবে সেখানে কোনও ম্যাচ না খেলেই লিয়েনে সই করেন পোর্তোয়। এরপর উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্স হয়ে ২০২০ সালে লিভারপুলের জার্সি গায়ে চাপান। ‘দ্য রেডস’ ব্রিগেডের হয়ে ১৮২ ম্যাচে ৬৫টি গোল রয়েছে তাঁর। স্বাদ পেয়েছেন প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ ও লিগ কাপের।
ফুটবল মাঠে উল্কার গতিতে এগনো জোতা রাজপথেও ঝড় তুলেছেন গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে। আসলে অ্যাডভেঞ্চার যে তাঁর দ্বিতীয় প্রেম। যেখানে মৃত্যুভয়ও তুচ্ছ!
কানে বেজে ওঠে, শরৎচন্দ্রের নৈশ অভিযান-এ শ্রীকান্তের উদ্দেশ্যে ইন্দ্রনাথের সেই অমোঘ উক্তি— মরতে তো একদিন হবেই ভাই!