Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

রেঙ্গুন ও শরৎচন্দ্র

রেঙ্গুন ও শরৎচন্দ্র
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
১৯০৩ সাল। মামা উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে রেঙ্গুন পাড়ি দিলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। সেখানে তখন ভয়ানক আকার নিয়েছে প্লেগ। অগত্যা ১০ দিনের নিভৃতবাস। এরপর পাকাপাকিভাবে মাথা গোঁজার ব্যবস্থা এবং একটা চাকরির সন্ধানে কেটে যায় প্রায় তিন বছর। ১৯০৬ সালের এপ্রিলে রেঙ্গুনের পাবলিক ওয়ার্কস অ্যাকাউন্টস অফিসে চাকরি পেলেন। শুরু হল জীবনের এক নতুন অধ্যায়।
Advertisement
শরৎচন্দ্র রেঙ্গুনে থাকতেন বোটাটং পজুনডং অঞ্চলে। সেই এলাকায় তখন মূলত শ্রমিক, মিস্ত্রিদের বাস। মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সহজাত দক্ষতায় অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মিস্ত্রিপল্লিতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। কারও বিপদে ছুটে যাওয়া থেকে কারও অসুস্থতায় হোমিওপ্যাথি ওষুধ দেওয়া, প্রয়োজনে অর্থসাহায্য—নানা কাজকর্ম অচিরেই শরৎচন্দ্রকে পরিচিত করে তোলে বিদেশ-বিভুঁইয়ে। সবকিছু এভাবেই চলছিল। ১৯১২ সালে একটি দুর্ঘটনা ঘটে। শরৎচন্দ্রের রেঙ্গুনের বাড়িতে আগুন লাগে। তাঁর সংগ্রহে থাকা নানা জিনিসপত্র, এমনকী ‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি পর্যন্ত পুড়ে যায়। সে বছর ২২ মার্চ বাল্যবন্ধু প্রমথনাথ ভট্টাচার্যকে লেখা চিঠিতে সেই অপূরণীয় ক্ষতির কথা জানিয়েছিলেন শরৎচন্দ্র।
একবার রেঙ্গুনে কবি নবীনচন্দ্র সেনের সংবর্ধনা সভায় গান গেয়ে নজর কাড়েন তিনি। পরে নবীনচন্দ্রই শরৎচন্দ্রকে ‘রেঙ্গুন রত্ন’ উপাধি দিয়েছিলেন। লেখালখির পাশাপাশি মাছ ধরা ও শিকারে যাওয়ার নেশা ছিল তাঁর। বিলিতি ছিপ, ওয়াটারপ্রুফ জ্যাকেট সহ নানা সরঞ্জাম নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে পড়তেন। অবসরে বন্দুক হাতে ঘুরে বেড়াতেন জঙ্গলে। ১৯১৬ সালে রেঙ্গুন থেকে কলকাতায় ফিরে আসেন কথাশিল্পী। কেউ কেউ বলেন, রেঙ্গুনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তাঁকে ক্রমশ অসুস্থ করে ফেলছিল। তাই তাঁর রেঙ্গুন ত্যাগ। কেউ বলেন, অফিসে ছুটি চাওয়া নিয়ে ঝামেলা করে চাকরি ছেড়ে সোজা কলকাতায় ফেরেন শরৎচন্দ্র। কারণ যা-ই হোক না কেন, পরবর্তী কালে শরৎ-সাহিত্যের নানা পরতে ফিরে ফিরে এসেছে কথাশিল্পীর রেঙ্গুন-বাসের দিনগুলির নানা অভিজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি, প্রতিফলন।
সম্পর্কিত সংবাদ