Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

রক্তস্নাত বাংলাদেশ কাঁদো...

রক্তস্নাত বাংলাদেশ কাঁদো...
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
‘একটু বাইরে আসুন। কথা আছে...।’ এভাবেই বাড়ি থেকে ডেকে এনে শত শত বাঙালি বুদ্ধিজীবীকে খুন করেছিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। মুক্তি যুদ্ধের পক্ষে থাকা শিক্ষক, সাংবাদিক, ডাক্তার, আইনজীবী, শিল্পী ও ইঞ্জিনিয়র— বাদ পরেননি কেউ। টানা প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল পাক সেনা ও তার দোসর জামাতে ইসলামির আল-বদর বাহিনী। কিন্তু বিষয়টা সামনে আসে ১৭ ডিসেম্বর । এর একদিন আগে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আত্মসমর্পণ করেছেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি। মুহূর্তের মধ্যে স্বাধীনতার আনন্দ পরিণত হয় বিষাদে। সংবাদপত্রগুলিতে প্রকাশিত হতে থাকে সেই নৃশসংতার খবর। শুধু দেশ নয়, শিউড়ে উঠেছিল গোটা বিশ্ব।
Advertisement
১৯৭১ সালের ১৯ ডিসেম্বর। দৈনিক ইত্তেফাক-এর শিরোনাম ছিল, ‘সোনার বাংলায় মানব ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড’। লেখা হয়েছিল, ‘শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) অপরাহ্নে ঢাকার কতিপয় সাংবাদিক কোন এক সূত্রে আভাস পাইয়া এই বধ্যভূমিতে গিয়া ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম হত্যাযজ্ঞের আলামত দেখিতে পান’। আর ‘রক্তস্নাত বাংলাদেশ কাঁদো’ শিরোনামে দৈনিক পূর্বদেশ লিখেছিল, ‘স্রোতস্বিনী পদ্মা-মেঘনা-যমুনার পানি আমাদের প্রিয়জনদের রক্তে লাল হয়ে গেছে। একদিকে স্বাধীনতার আনন্দ, অন্যদিকে লাখো মানুষের আত্মহুতি।’ বধ্যভূমিতে বুদ্ধিজীবীদের দেহ ‘বিভৎস্য’ অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল বলে জানিয়েছে সেসময়কার বিভিন্ন সংবাদপত্র।
পরবর্তীকালে ওপার বাংলার বুকে ঘটে যাওয়া বুদ্ধিজীবী গণহত্যা নিয়ে নানা ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে আসে। বুদ্ধিজীবীরা হলেন জাতির বিবেক। রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে এঁটে উঠতে না পেরে ‘জাতির বিবেক’-কে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল পাক হানারাদরা। ২৫ মার্চ ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর পরিকল্পনার সঙ্গেই তৈরি হয়েছিল বুদ্ধিজীবী গণহত্যার খসড়া। পরাজয় নিশ্চিত জেনে ডিসেম্বরের ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে সবথেকে বেশি সংখ্যক খুন করে ‘কষাই’রা। পাক সেনার হাতে খুন হওয়ার প্রায় ২০০ বুদ্ধিজীবীর মধ্যে অর্ধেক ছিলেন শিক্ষক। যদিও স্বাধীনতার এত বছর পরেও শহিদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
সম্পর্কিত সংবাদ