Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাজ্যে তিন গ্রামীণ ব্যাঙ্ক মিশে যাচ্ছে, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় কর্মীরা 

রাজ্যে তিন গ্রামীণ ব্যাঙ্ক মিশে যাচ্ছে, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় কর্মীরা 
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের তিনটি গ্রামীণ ব্যাঙ্ককে মিশিয়ে দেওয়া হল। এর ফলে এখন থেকে রাজ্যে একটিই গ্রামীণ ব্যাঙ্ক থাকবে, যেটি নিয়ন্ত্রণ করবে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক। এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে অর্থমন্ত্রক। তারা জানিয়েছে, প্রতিটি রাজ্যে একটি করেই গ্রামীণ ব্যাঙ্ক থাকবে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে ব্যাঙ্ক সংগঠন। তাদের আশঙ্কা, এরপর গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলির বেসরকারিকরণের দিকে এগতে পারে মোদি সরকার।
Advertisement
দেশে ৪৩টি গ্রামীণ ব্যাঙ্ক আছে, যাদের মোট শাখার সংখ্যা ২২ হাজার। ব্যাঙ্কের ডিপোজিট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রায় ৩০ কোটি এবং লোন অ্যাকাউন্ট রয়েছে প্রায় ৩ কোটি। এই ব্যাঙ্কের গঠনগত বৈশিষ্ট্য হল, এর ৫০ শতাংশ মালিকানা কেন্দ্রীয় সরকারের, ১৫ শতাংশ রাজ্য সরকারের এবং ৩৫ শতাংশ কোনও বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের। এক্ষেত্রে ১১টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ও ১টি বেসরকারি ব্যাঙ্কের আওতায় এক বা একাধিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক আছে। যেহেতু মালিকানার অন্যতম অংশীদার তারা, তাই এই বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিই গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ‘স্পনসর্ড ব্যাঙ্ক’ হিসেবে কাজ করে। বাংলায় তিনটি গ্রামীণ ব্যাঙ্কের একটি হল বঙ্গীয় গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্ক, যেটির স্পনসর্ড ব্যাঙ্ক হিসেবে কাজ করে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক। দ্বিতীয়টি পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, যেটির স্পনসর্ড ব্যাঙ্ক ইউকো। তৃতীয়টি উত্তরবঙ্গ ক্ষেত্রীয় গ্রামীণ ব্যাঙ্ক। এটি রয়েছে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের আওতায়। কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই ব্যাঙ্কগুলি এখন থেকে শুধুমাত্র পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের আওতায় থাকবে। এইভাবে দেশের গ্রামীণ ব্যাঙ্কের সংখ্যা ৪৩ থেকে ২৮-এ হবে। 
পশ্চিমবঙ্গে ব্যাঙ্কটির নামকরণ আগামী দিনে ঠিক হবে। অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভাপতি রাজেন নাগর বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলিকে মূল ব্যাঙ্কের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার দাবি করছি। কারণ, গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলিতে মূলধনের অভাব আছে। স্পনসর্ড ব্যাঙ্কের সঙ্গে মিলে গেলে তাদের মূলধনের জন্য সরকারের বাজেট বরাদ্দের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। মূলধনী বাজারের নাগাল পাবে তারা। তাতে সরকারেরও আর্থিক দায় কমবে। তাছাড়া গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলির পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব স্পনসর্ড ব্যাঙ্কের পাশাপাশি নাবার্ডেরও। এক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিচালনা সম্ভব নয়, আবার একই এলাকায় গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এবং স্পনসর্ড ব্যাঙ্ক একই গ্রাহক বৃত্তের মধ্যে ব্যবসার প্রতিযোগিতা করছে। তারা মিলে হলে গ্রাহক আরও ভালো পরিষেবা পাবেন। অথচ সরকার এই কাজ না-করে, গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলির সংযুক্তিকরণ করল। এতে সমস্যাগুলি রয়েই গেল। তাই আমরা এর বিরোধিতা করছি। বরং আমাদের আশঙ্কা, সরকার এবার গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলির বেসরকারিকরণের পথেই হাঁটবে।
সম্পর্কিত সংবাদ