ঋতব্রত তৃণমূলের দীনেন-শিউলির দেখা মিলছে না, ছাত্রছাত্রীদের ‘মুশকিল আসান’ মেদিনীপুরের শংকর
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মণিরাজ ঘোষ, খড়্গপুর: পেশায় তিনি শিক্ষক। গণিত বিষয়ে ডক্টরেটও। তাই ছাত্রছাত্রীদের কোনো সমস্যার কথা শুনলেই সমাধান করতে এগিয়ে আসেন মেদিনীপুরের বিজেপি বিধায়ক শংকর গুছাইত। এবারও তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন খড়্গপুর গ্রামীণ ও কেশপুর বিধানসভার এলাকার পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে। ওই এলাকার সরকারি বৃত্তি বা স্কলারশিপের আবেদনকারী পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগ, ঋতব্রত তৃণমূলের বিধায়ক দীনেন রায় ও শিউলি সাহার দেখা মিলছে না। ফলে স্কলারশিপে তাঁদের সই করানো যাচ্ছে না। এর ফলে আবেদনপত্র তাঁরা জমা দিতে পারছেন না।

Advertisement

এই পরিস্থিতিতেই ছাত্রছাত্রীদের ‘মুশকিল আসান’ রূপে হাজির হলেন মেদিনীপুরের বিধায়ক শংকরবাবু। বৃহস্পতিবার শঙ্করবাবু তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন, ছাত্রছাত্রীদের যাতে কোনো সমস্যা না হয় তা দেখার দায়িত্ব আমাদের। ওই দুই বিধানসভা এলাকার ছাত্রছাত্রীরা আমার কার্যালয়ে এলে আমি আবেদনপত্রে সই করে দেব। ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপের নথিতে স্থানীয় বিধায়ককে সই করতে হয়। অভিযোগ, খড়্গপুর গ্রামীণের বিধায়ক দীনেন রায়ের দেখা মিলছে না সবসময়। বৃহস্পতিবার আবাস(রাজারদিঘি) এলাকায় অবস্থিত দীনেন রায়ের বিধায়ক কার্যালয় থেকে ফিরে আসা বেশ কয়েকজন পড়ুয়ার স্কলারশিপের নথিতে স্বাক্ষর করেন মেদিনীপুরের বিধায়ক। গত কয়েকদিনে কেশপুর ও খড়্গপুর গ্রামীণের আরও অনেক ছাত্রছাত্রীর আবেদনপত্রে তিনি স্বাক্ষর করেছেন বলে জানান শংকরবাবু। এদিন তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীরা যাতে কোনোভাবেই অসুবিধায় না পড়ে, সেজন্যই এই উদ্যোগ। ওই আবেদনপত্রে যে কোনো একজন বিধায়ক সই করলেই হবে। ছাত্রছাত্রী ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে ওই বিধানসভা এলাকার মানুষ সাহায্য চাইলে কী করবেন? শঙ্করবাবু বলেন, ‘সেটা পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সব জায়গায় অন্য বিধানসভার বিধায়কের সই গ্রাহ্যও হবে না। আপাতত শুধুমাত্র পড়ুয়াদের জন্যই এই সিদ্ধান্ত।’ মেদিনীপুর শহরের ধর্মা (বিবেকানন্দনগর) এলাকায় তাঁর বিধায়ক সেবাকেন্দ্রে এলেই পরিষেবা মিলবে বলে শংকরবাবু জানিয়েছেন। এদিন কলকাতা থেকে ফোনে খড়্গপুর গ্রামীণের বিধায়ক দীনেনবাবু বলেন, ‘ইতিমধ্যেই বহু ছাত্রছাত্রী স্কলারশিপে আমার সই করিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। বিধানসভায় বা জরুরি কোনো কাজ না থাকলে আমার বাড়ির কার্যালয়ে আমি থাকি। স্কলারশিপ, আধারের কাজ সহ শংসাপত্র পেতে কোনো সমস্যা হবে না।’ বিধানসভা অধিবেশনে যোগ দিতেই তিনি কলকাতা এসেছিলেন বলে এদিন জানান। তবে, এলাকায় যে তাঁকে তেমন দেখা যাচ্ছে না, বাসিন্দারা এনিয়ে আগেই অভিযোগ করেছেন। এদিন রাকেশ মণ্ডল, মৌমিতা সাউ সহ বেশ কয়েকজন পড়ুয়া বলেন, ‘আমরা দু’দিন আগেই বিধায়কের কার্যালয় থেকে ফিরে এসেছি।’ খড়্গপুর গ্রামীণ ছাড়াও ঋতব্রত তৃণমূলের আরেক বিধায়ক কেশপুরের শিউলি সাহারও দেখা মিলছে না এলাকায়। শিউলিদেবী অবশ্য জানিয়েছেন, অশান্তির ভয়েই তিনি এলাকায় যেতে পারছেন না। তাঁর দাবি, ‘বিজেপির একাধিক নেতাকে অনুরোধ করেও কেশপুরে ঢুকতে পারছি না। নেতাদের অনেকেই কেশপুর যেতে বারণ করছেন। আবার কেউ কেউ যেতে বলেছেন। ফলে সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। এতে সত্যিই সমস্যায় পড়ছে কেশপুরের মানুষ। কালীপুজোর সময় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পুলিশ-প্রশাসনেরও সাহায্য চেয়েছি।’